‘অধিকাংশ শিক্ষকই পদোন্নতির জন্য তড়িঘড়ি করে গবেষণা করেন’

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫৬

জাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথমদিকে কেউই গবেষণা করেন না। কিন্তু তিনবছর পার হবার পর পদোন্নতির সময় হলে তড়িঘড়ি করে গবেষণার পদ্ধতি না মেনেই একটা কিছু লিখে ফেলেন।’

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের আয়োজনে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই: উচ্চশিক্ষা, নীতিমালা, কাঠামো’ শীর্ষক সেমিনারের দ্বিতীয় দিনে এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় গবেষণাকর্মে চৌর্যবৃত্তির কথা উল্লেখ করে ফাহমিদুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণাপত্র বাংলায় না লিখে ইংরেজিতে লিখেন। কারণ বাংলায় নিজে লিখতে হয়, আর ইংরেজিতে কপি-পেস্ট করে বসিয়ে দিলেই হয়। এ ধরনের গবেষণার বিষয়ে যখন কেউ শত্রুতাবশত অভিযোগ তোলে, তখন দুই-একটা সামনে আসে। অধিকাংশই আড়ালে থেকে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ভিত্তিতে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। শিক্ষকেরা গবেষণা করেই পদোন্নতি পান। কিন্তু কোনো কোনো শিক্ষক গবেষণা না করেও পদোন্নতি পেয়ে যান। এতে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার আদর্শ পরিবেশ নেই।’

শুক্রবার সকাল সোয়া ১০ টায় শুরু হওয়া প্রথম অধিবেশনে রেহনুমা আহমেদের সঞ্চালনায় ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে: প্রাইভেট ও “সরকারি” বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞতা’ বিষয়ক প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) শিক্ষক সুমন রহমান ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্যু কিবরিয়া ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফসান চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাসির আহমেদ, ইউল্যাবের সলিমুল্লাহ খান।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষক মনে করা হয় না। তাদের মধ্যে যারা খণ্ডকালীন তাদেরকে অমানুষ মনে করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো সমিতি করতে দেওয়া হয় না। তাদেরকে ৫ বছরের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেও দেওয়া হয় না।’

পরে দুপুর সাড়ে ১২ টায় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘পাঠদান ও গবেষণা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রুশাদ ফরিদী। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, মোহাম্মদ আজম ও কাজী ফরিদ।

নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করে যে দেশটা আমরা অর্জন করেছি, সেই দেশের জন্য নতুন জ্ঞান উত্পাদনের জন্য আমাদের ভাবতে হবে। পশ্চিমা জ্ঞান মাথায় নিয়ে পশ্চিমা গবেষণা করেই যদি আমরা দায় সেরে ফেলি, তাহলে কিন্তু আমরা সেই চরকার মধ্যেই ঘুরপাক খেতে থাকবো।’

কাজী ফরিদ বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ক্লাসেই আসেন না। জবাবদিহিতা না থাকায়, আমরা ক্লাসে যাচ্ছি কি যাচ্ছি না সেটি কোনো বিষয়ই মনে হয় না। এটি শিক্ষকতার অনেক বড় সমস্যা।’

সম্মেলনের সর্বশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় বেলা তিনটায়। অধ্যাপক ফাহমিদুল হকের সঞ্চালনায় ‘ভর্তি, নিয়োগ ও প্রশাসন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস। আলোচনায় অংশ নেন কাজী মারুফ ও মানস চৌধুরী। বিকাল পাঁচটায় প্লেনারি অধিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে সম্মেলনের গৃহীত প্রস্তাব সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস।