নাশকতা ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগের অপর একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে আবারও পাঁচদিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল করিম। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী জামিনের আবেদন নাকচ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শিমুল বিশ্বাসের পক্ষে এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ডের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, যে মামলায় রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে সেই ঘটনায় শিমুল বিশ্বাস জড়িত নন। হাইকোর্টের সামনে পুলিশের গাড়িতে হাঙ্গামার সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গাড়িতে ছিলেন। এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। আইনজীবিরা বলেন, শিমুল বিশ্বাসকে এর আগে পাঁচদিনের রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ ইত্তেফাককে জানান, রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার শিমুল বিশ্বাসকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। সে রিমান্ড শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করে নতুন করে আরেকটি মামলায় রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে,গত শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের পরপরই আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শিমুল বিশ্বাসকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সর্বশেষ মতিঝিল থানার একটি নাশকতার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি
