ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে চাকরীর ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ করলেন গৌরনদীর ইউএনও খালেদা নাসরিন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ৩৬ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ন বিএম হায়দার আলী বাড়ীতে স্বেচ্ছায় ফুল নিয়ে তিনি ছুটে যান। বিএম হায়দার আলী ও তার গর্বিত মা-বাবার হাতে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান ইউএনও। এ সময় নির্বাহী অফিসারের সাথে ছিলেন তারই (ইউএনওর) ছোটভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জূঁয়েল হাসান শ্রাবণ।
তাদের টিনের বসত-ঘরের বারান্দায় কিছুক্ষণ বসে পরিবারের সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন ইউএনও। সেই সাথে মেধাবী ছাত্র বিএম হায়দার আলীর লেখাপড়ার সফলতার কাহিনীও শোনেন। এভাবেই তার চাকরীর তদন্ত কাজ সমাপ্ত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গৌরনদীর নির্বাহী অফিসার খালেদা নাসরিন। নির্বাহী অফিসারের ব্যবহারে মুগ্ধ হন ওই পরিবারের সদস্যরা। বিএম হায়দার আলী ও তার মা-বাবা প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি। চাকরী পেতে কত না ঝামেলা হয়। এই দেশে সব চাকরীর ভেরিফিকেশনের কাজ যদি এভাবে শেষ হতো, তা হলে ভালো হতো বলে সবাই আশা পোষণ করছেন।
গৌরনদীর পশ্চিম সাওড়া গ্রামের প্রাক্তন মাদ্রাসা শিক্ষক সেকান্দার আলী বেপারীর পুত্র বিএম হায়দার আলী। মা হামিদা বেগম একজন গৃহিনী। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে বিএম হায়দার আলী পঞ্চম।
হায়দার আলী জানান, আমাদের অভাব অনাটনের সংসার হলেও বাবা-মা সবাইকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। আমিও টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ যোগাড় করেছি।
জানা গেছে, হায়দার আলীর বাবা স্থানীয় পশ্চিম সাওড়া আলিম মাদ্রাসার গণিতের শিক্ষক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার আদর্শকে বুকে ধারণ করে বড় হয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিএম হায়দার আলী। ২০০৬ সালে বাবার মাদ্রাসা থেকে দাখিল, ২০০৮ সালে সরকারী গৌরনদী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন মেধাবী ছাত্র বিএম হায়দার আলী। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে অর্থনীতিতে অনার্স ও ২০১৫ সালে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। অতপর ৩৬ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি উত্তীর্ন হন।
ইত্তেফাক/নূহু
