শিবালয় উপজেলার পদ্মা-যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে একশ্রেণির লোক কয়েক ডজন ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে প্রকাশ্যে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও মাটিখেকোদের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। অব্যাহতভাবে মাটি কাটার ফলে নদী তীরবর্তী স্থানে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে পানি যতই কমে আসছে, নদী তীরবর্তী স্থানে মাটি কাটার জন্য লাগানো ড্রেজারের সংখ্যা ততোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসন এখনও এসব অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শিবালয়ের দক্ষিণে মান্দ্রাখোলা ও উত্তরে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত নদী তীরবর্তী প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে ইতোমধ্যে বেশকিছু ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি, বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এদেরকে বাধা দিতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে পদ্মা-যমুনা বক্ষে ড্রেজার বসিয়ে মাটি তুলে নদী তীরে বা দূরবর্তী জায়গায় রেখে ট্রাক-ভ্যানযোগে অন্যত্র বিক্রি করছে। তাদের এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। গতবছর এই এলাকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩২টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেয়ার ফলে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়।
জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র আওতাধীন পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের উত্তরদিকে নদী থেকে স্থানীয় এক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কতিপয় চিহ্নিত ব্যক্তি প্রতিবছর কয়েক লাখ ঘনমিটার মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করছে। এছাড়া আরিচা টার্মিনাল, নিহালপুর কবরস্থান, প্রাথমিক বিদ্যালয়-১, শাজাহানপুর, ষাইটঘর তেওতা, পয়লা, মালুচি, গোয়াড়িয়া ও জাফরগঞ্জ এলাকায় নদী থেকে ড্রেজারযোগে অবৈধভাবে মাটি কাটার ব্যবসা জমে উঠেছে। পাটুরিয়া ঘাটে মাটির ব্যবসা সম্পর্কে স্থানীয় নালী কেসি উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ মোন্তাজউদ্দিন জানান, অন্যদের সাথে তিনি অংশীদার হিসেবে এ ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন। শিবালয় থানার ওসি মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, দু’সপ্তাহ আগে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার দায়ে আটক পাঁচজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।
