তুচ্ছ ঘটনার জেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রীসহ সকলকে মারধর, লুটপাট, ছিনতাইসহ নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের দেড়গ্রাম এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুলন বেপারীর মেয়ে নাসরিন আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে নাসরিন আক্তারের চাচা মোঃ সোরহাব বেপারী বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে কনে পক্ষের দাওয়াতে উপস্থিত কনের মামাতো ভাই পিয়াসের (৯) পায়ের উপর দিয়ে স্থানীয় মুখলেছের ছেলে শাকিল মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেয়। পিয়াসের মা তাকে গাড়ি দেখেশুনে চালাতে বলায় শাকিল ক্ষিপ্ত হয়ে পিয়াসের মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করে। ছেলের কান্নাকাটিতে বাবা রশিদ এগিয়ে আসলে তার সাথে শাকিলের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর শাকিল তাদেরকে শাসিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। প্রায় ২০ মিনিট পর মুখলেছ ও তার ছেলে শাকিল এবং তাদের সহযোগী সাদ্দাম, সাদী, সাদেক, রাকিব, সোহানসহ প্রায় ২০ জন লাঠিসোঁটা, রড, রামদা নিয়ে সেখানে হামলা চালায় এবং ডেকোরেশনের চেয়ার-টেবিল ভাঙতে ভাঙতে ভেতরে ঢোকে। তারা ডেগ ভর্তি খাবার লাথি মেরে ফেলে দেয়। মেয়ের চাচাতো ভাই মোশারফ ও বাবা ফুলন বেপারী তাদের ভাঙচুর করতে নিষেধ করলে তারা দুজনকে লক্ষ্য করে লাঠিসোঁটা ও রড ছুড়ে মারে। মোখলেছ রড দিয়ে মোশারফের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। এরপর হামলাকারীরা মেয়ের বাবা ফুলন বেপারীকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এসময় মেয়ের চাচা আলতাফ এবং বড়যাত্রী আবির এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের রাকিব ও সোহান তাদেরকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করতে থাকে। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন বরসহ তার সাথে থাকা সকলকেই কিল, ঘুষি, লাথি মারে এবং জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। মারপিটের সময় প্রতিপক্ষের সাদ্দাম ও সাদী মেয়ের গায়ের তিন ভরি স্বর্ণ ও নগদ দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে যায় এবং মোখলেছ মেয়ের বাবার পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাদের চিত্কারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ‘এই ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে খুন করে ফেলবো’— এমন হুমকি-ধামকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়। হামলায় গুরুতর আহত ফুলন বেপারী, মোশারফ হোসেন ও আবিরকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় মেম্বার নুরুল ইসলাম বলেন, বিয়ে বাড়িতে এই ধরনের হামলা একটি নিন্দনীয় অপরাধ। আমরা দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই। মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।
