রূপগঞ্জ উপজেলার মাহনা এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নারীসহ ১৫ জন আহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য। তার পিতার নাম মৃত বিল্লাল হোসেন ভুইয়া।
মামলার বাদীর বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, বুধবার সকালে মাহনা এলাকার মনির হোসেন নিজস্ব জমিতে ড্রেনের জন্য পাইপ বসানোর কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষ মান্নান মিয়া তাকে বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে মান্নান মিয়াসহ তার লোকজন মনির হোসেনকে চর থাপ্পর মারে। মনির হোসেনের শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজন সে সময়ে মনির হোসেনের বাড়িতে ছিলেন। তারা মনির হোসেনকে চড় মারার প্রতিবাদ করেন। এ সময় প্রতিপক্ষ মান্নান মিয়াসহ তার লোকজন মনির হোসেনের আত্মীয়-স্বজনদের গালিগালাজ করতে শুরু করে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে মনির হোসেনের আত্মীয়-স্বজনদের দুটি মাইক্রোবাস ভাংচুর করে মান্নান ও তার লোকজন। গাড়ি ভাংচুরে সহযোগিতা করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম। এক পর্যায়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও মান্নান মিয়াসহ তাদের লোকজন এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় এবং ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মনির হোসেনের আত্মীয়-স্বজনদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ছুরির পোচে রাসেল মিয়া ও সাইফুল ইসলামের ভুঁড়ি বের করে দেওয়া হয়। এরা দুইজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এছাড়া আশরাফ ও রাজু আহাম্মেদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মনির হোসেনের শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বাদী অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, মান্নান মিয়াসহ অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
