চাঁদপুরে যুবক হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:২০
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মো. মাসুদ রানা নামে এক যুকককে (২৩) বাড়ি থেকে ডেকে এনে হত্যার অপরাধে পাঁচজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ এ রায় দেন।
 
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. ইয়ামিন বেপারী (২৪), মো. আব্দুল খালেক মোল্লা (৩২), মো. ফারুক ওরফে নবী (২৫), মো. সেলিম মাঝি (২২) ও মো. আলী মুন্সী (২৮)। হত্যার শিকার মো. মাসুদ রানা একই উপজেলার দক্ষিণ রাঢ়ী কান্দির দর্জি বাড়ির মো. রবিউল দর্জির ছেলে। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলা বাজারে বাদলের তেলের দোকানে কাজ করতেন।
 
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৭টার দিকে মো. আলী মাসুদ রানাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান আসামি। ওই রাতে তাকে আর খুঁজে পায়নি পরিবারের লোকজন। পরদিন সকালে আসামি মো. আলীকে স্থানীয় লোকজনের সামনে মাসুদ রানার কথা জিজ্ঞাস করলে জানান, রাতে অপর আসামিরাসহ আলফুর প্রধানের বাড়ির পাশে রাস্তায় আড্ডা দেয় এবং দোকানে নাস্তা করেন। পরে মো. আলী ব্রিজের নিকট এসে তাদেরকে রেখে চলে যায়। 
 
এরপর মাসুদ রানার পিতা ছেলেকে না পেয়ে ১৪ অক্টোবর মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর খোঁজাখুঁজি করে ১৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পার্শ্ববর্তী গোয়াল ভাওর ওহাব নামে ব্যক্তির ডোবার মধ্যে মাসুদ রানার মরদেহের সন্ধান পায়। তার পরনে জামা কাপড় থেকে মরদেহ শনাক্ত করে এবং পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
 
সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর সাইয়্যেদুল ইসলাম বাবু জানান, সরকার পক্ষ দীর্ঘ ১০ বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় ৩৪জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এতে আসামিদের জবানবন্দী ও অপরাধ স্বীকার করায় উল্লেখিত ৫জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া একই মামলার আরো ৩ আসামি কামাল হাওলাদার (৩০), মো. কেরামত আলী মোল্লা (৫৫) ও মো. চেরাগ আলী মোল্লাকে (৫২) মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
 
সরকার পক্ষের সহকারী আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন দেবাসীষ কর মধু।  
 
ইত্তেফাক/এমআই