পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে যথাযোগ্যভাবে পালন করা হয়েছে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন এবং লিসবন মিনিসিপালিটির ওয়ার্ড জুইন্তা ফ্রেগ্রেজিয়া আরিওসের যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ক্যাম্পো মার্টিয়ারেস দ্যা প্যাট্রিয়া তে বায়ান্নর শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্থায়ী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের রাষ্ট্রদূত রুহুল আলম সিদ্দিকী। এরপরপরই পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিসবন মিউনিসিপালিটি, জুইন্তা ফেগ্রেজিয়া আরিওস, জুইন্তা ফেগ্রেজিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বাংলাদেশী সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পর্তুগাল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল পর্তুগাল, বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগাল, বৃহত্তর ফরিদপুর অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগাল, পর্তুগাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন, পর্তুগাল ছাত্রলীগ, বিয়ানিবাজার প্রবাসী কল্যাণ সমিতিসহ পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আরো বেশ কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।
IMG0
সল্পসময়ের আলোচনায় রাষ্ট্রদূত রুহুল আলম সিদ্দিকী বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৪০টিরও বেশি দেশে পালিত হয়ে থাকে। দেশে দেশে নির্মিত হচ্ছে স্থায়ী শহীদ মিনার। পর্তুগালেও দুটি স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে এখনো স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপিত হয়নি সেখানে পর্তুগালে আমাদের দুটি স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে যেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের। এরপর পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি, লিসবন মিনিসিপালিটির ওয়ার্ড জুইন্তা ফ্রেগ্রেজিয়া আরিওসের প্রেসিডেন্ট মার্গারিতা মার্টিন্স ও জুইন্তা ফেগ্রেজিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল কোয়েলো ভাষা দিবস নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, পর্তুগালের রাজধানী লিসবন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোর্তোতে দুটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন ও জুইন্তা ফ্রেগেজিয়া আরিওস এর যৌথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে লিসবনের ক্যাম্পো মার্টিয়ারেস দ্যা প্যাট্রিয়া পার্কে স্থায়ী শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়েছিলো। বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো এবং পোর্তো মিউনিসিপালিটির যৌথ উদ্যোগে ২০১৬ সালে পোর্তো শহরের প্রাণ কেন্দ্র বিখ্যাত সাও বেন্তে নামক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় পর্তুগালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্থায়ী শহীদ মিনার।
ইত্তেফাক/ইউবি
