সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও বিনম্র শ্রদ্ধায় বুধবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮ পালিত হয়েছে ।
দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে আনসান শহরের মাল্টিকালচারাল পার্কে অবস্থিত স্থায়ী শহীদ মিনারে রাষ্ট্রদূত পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই আনসান সিটির মেয়র জনাব জে জং-গিল পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় মেয়রের দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত এবং মেয়রের পর কোরিয়াস্থ বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ভাষাশহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানান।
এছাড়া সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের সার্বিক উন্নতি কামনা করে দোয়া করা হয়। এ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ (কুরআন, গীতা, ত্রিপিটক, বাইবেল), এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
IMG0
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালী জাতির চরম আত্মত্যাগ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই সুপ্ত ছিল বাঙালীর স্বাধীনতা আদায়ের স্বপ্ন এবং এই চেতনাকেই ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে আমাদের সকল আন্দোলন ।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে প্রথমবারের মত কোরিয়ান ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কো’র (কেএনসিইউ) সাথে যৌথভাবে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে ফোরাম আয়োজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেএনসিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল জনাব কোয়াংহো কিম, কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক জনাব উই জুনসোক, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জর্ডান, কম্বোডিয়া, ঘানা, পূর্ব তিমুর, আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রদূতবৃন্দ ও অন্যান্য দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনীতিকবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ইউনেস্কো’র মহাপরিচালক মান্যবর অদ্রে আজুলে’র দেয়া বাণী পাঠ কর হয়। এরপর কেএনসিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল জনাব কোয়াংহো কিম প্রারম্ভিক এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত স্বাগত বক্তব্য রাখেন । আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এবারই প্রথম কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে বাণী প্রদান করা হয় যা পরিচালক জনাব উই জুনসোক পাঠ করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর দিবসের তাৎপর্য্যের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনহা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জনাব কেশব কে অধিকারী । তার প্রবন্ধে ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, তাৎপর্য্য, ভাষা নিয়ে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার সংগ্রামের সাদৃশ্য ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে। অতঃপর প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন দু’জন কোরিয়ান আলোচক—জনাব ওনহিয়ং চো, প্রভাষক, সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং জনাব নামুক কাং, সহকারী অধ্যাপক, গিয়ংইন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
IMG1
আলোচনা শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয় । দূতাবাস পরিবারের পরিবেশনায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয় । এরপর নেপাল, ফিলিপাইন এবং কোরিয়ার শিল্পীদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মোহিত করে। বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
ইত্তেফাক/ রেজা
