রূ প ক ড় চা

ছেলেদের চুলের যত্নে

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৪৫

 

মেয়েদের মাথায় যেহেতু লম্বা চুল থাকে, তাই চুলের যত্নের বিষয়টি শুধু মেয়েদের সঙ্গেই সম্পৃক্ত—এমন ভুল ধারণা অনেকেই পোষণ করে থাকেন। কিন্তু এ ধারণা শুধু ভুলই নয়, সেকেলেও বটে। এখন ছেলেমেয়ে বলে কোনো কথা নেই, সবার চুলেরই যত্ন ও পরিচ্ছন্নতা দরকার। তবে ছেলেদের যেহেতু বেশিরভাগ সময়ই ধুলোবালির মধ্যে ঘোরাফেরা করতে হয়, তাই ছেলেদের চুলের একটু বেশিই যত্ন নিতে হয়। বিশেষ করে চুলকে কিভাবে ধুলোবালিমুক্ত রাখা যায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়। তবে চুলকে পরিচ্ছন্ন তথা ধুলোবালিমুক্ত করতে গিয়ে এমনভাবে চুলের ওপর অত্যাচার করা যাবে না, যাতে চুল পড়তে পড়তে পুরো মাথা খালি হয়ে যায়। এরজন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। এগুলো অনুসরণ করলে চুল পরিষ্কারও হবে, আবার চুলের কোনো ক্ষতিও হবে না। তবে প্রথমেই জেনে রাখা ভালো কিভাবে ধুলোবালি লাগার হাত থেকে চুলকে রক্ষা করা যায়। কারণ ধুলোবালি লেগে যাওয়ার পর পরিষ্কার করার চেয়ে আগে থেকেই সাবধান থাকা ভালো। যাতে ধুলোবালি না লাগতে পারে। এর জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন বাইরে বের হওয়ার আগে ক্যাপ পরে নিলে ভালো হয়। যারা বাইক চালান তাদের উচিত হেলমেট পরে নেওয়া। যাদের চুল লম্বা, তারা বাইরে বের হওয়ার আগে চুল বেঁধে নিলে সব চুলে ধুলোবালি লাগে না।

চুলের উজ্জ্বলতায়

চুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যতই সতর্ক থাকা হোক না কেন, তবু ময়লা লেগে যেতেই পারে। তাই ময়লা লেগে যাওয়ার পর সেটি কিভাবে পরিষ্কার করতে হবে, তা জানা প্রয়োজন। চুলের পরিচ্ছন্নতার জন্য সবাই সবচেয়ে সাধারণ যে পদ্ধতিটি অবলম্বন করেন, তা হলো শ্যাম্পু ব্যবহার করা। তবে সবাই যে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারের সুযোগ পান, তা কিন্তু নয়। অনেকেই সময় করে উঠতে পারে না, আবার অনেকেরই জানা নেই—শ্যাম্পু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম। তবে রূপবিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন শ্যম্পু ব্যবহার করা উচিত এই জন্য, যেহেতু চুলের গোড়ায় ময়লা ও ঘাম জমে চুলের ও ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। এ ক্ষেত্রে মাইল্ড শ্যাম্পু  অথবা ইউভি (অতি বেগুনি) ব্যবহার করা জরুরি। কারণ এ ধরনের শ্যাম্পুতে রাসায়নিক দ্রব্য কম থাকে। যেমন :বাচ্চাদের শ্যাম্পু, হারবাল বা ফ্রুটস শ্যাম্পুগুলো। শ্যাম্পু করার পর চুলের কন্ডিশনারের কোনো বিকল্প নেই। কারণ, ধুলোবালিতে চুলের রুক্ষতা বেড়ে যায়। যত তাড়াতাড়ি চুলের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলা যায়, চুলের জন্য ততই ভালো। যারা প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে পারেন না, তাদের উচিত সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন শ্যাম্পু করা। যারা মনে করেন বাড়িতে তৈরি কিছু হেয়ার প্যাক দিয়ে চুল পরিষ্কার করবেন, তাও করতে পারেন। এতে চুল আরো বেশি নিরাপদ থাকবে। বাড়িতে হেয়ার প্যাক তৈরি করতে হলে যেসব উপাদান লাগবে সেগুলো হলো অর্ধেক কলা, এক টেবিল চামচ টক দই, এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এসব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলের গোঁড়ায় লাগিয়ে গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে ১৫-২০ মিনিট বেঁধে রেখে শ্যাম্পু করলে চুল সতেজ ও ঝরঝরে হয়ে যাবে। তবে, ধোয়ার পর অবশ্যই ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন চুলের গোঁড়ায় হেয়ারপ্যাক না থাকে। হেয়ারপ্যাক থেকে গেলে সেটা চুলের ক্ষতি করবে। চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে রিঠাফল অথবা চায়ের পাতা ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা এই পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়। মাথায় খুশকি হলে পেঁয়াজের রস দিয়ে ভালোভাবে মাথা ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে যে স্থানে খুশকি হয়েছে, সেখানে এই রস লাগাতে হবে। গরমের দিনে অতিরিক্ত গরমের কারণে মাথার ত্বকে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। যেমন অনেক সময় দেখা যায়, মাথার ত্বকে ছোট ছোট ফোস্কা বা ঘামাচি উঠেছে। এই ফোস্কা বা ঘামাচি দূর করতে হলে সপ্তাহে একদিন নিমপাতা ভেজানো পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। যাদের মাথায় ঘামাচির পরিমাণ বেশি, তারা আদার রসও দিতে পারেন। এগুলো মাথার ত্বকে অ্যান্টিসেপ্টিকের কাজ করে। তবে এতক্ষণ যেসব যত্নের কথা বলা হলো, সেগুলো চুলের বাহ্যিক যত্ন। চুলকে সব দিক থেকে স্বাস্থ্যকর রাখতে হলে শুধু বাহ্যিক যত্ন নিলেই চলবে না। নিতে হবে আভ্যন্তরীণ যত্নও। আর সেই যত্ন নিশ্চিত হবে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে। চুলকে সুস্থ রাখতে হলে পানি, ফল, শাক-সবজি ইত্যাদি বেশি বেশি খেতে হবে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে চুল শুধু ঝলমলে আর সুন্দরই হবে না, চুল ঝরে পড়াও বন্ধ হবে। আর আপনি থাকবেন টাকের আশঙ্কামুক্ত।

 

মডেল অপু, সীমান্ত ও কায়েস

পোশাক মারজিন

ছবি বিশ্বজিত্ সরকার