নিজের ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র এহসান রফিককে মেরে রক্তাক্ত করে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি কমিটি সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে।
আজ সোমবার শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত হয়। ডিবির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটের মিটিংয়ে অনুমোদিত হয়।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগের এস এম হল শাখার পদধারী একজনকে স্থায়ী, পাঁচজনকে দুই বছর ও একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্থায়ী বহিষ্কৃত একজন হলেন- ছাত্রলীগের এসএম হল শাখার সহ-সম্পাদক ওমর ফারুক (মার্কেটিং বিভাগ)। দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃতরা হলেন-হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রুহুল আমিন (সাংবাদিকতা বিভাগ), সদস্য সামিউল ইসলাম সামী (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), সদস্য আহসান উল্লাহ (দর্শন), উপ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমেল (উর্দু বিভাগ) এবং সহ-সম্পাদক ফারদিন আহমেদ মুগ্ধ (লোক প্রশাসন)। এ ছাড়া ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলামকে (আইইআর বিভাগ) এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় এটার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বহির্ভূত কোনো কাজ কেউ করলে তাকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, মারধরের ফলে এহসান রফিকের বাম চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ওই চোখে সে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। আগামী ৫ মার্চ ভিসা পেলে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে তার বলে তার বাবা রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান। এহসান রফিককে মারধরের ঘটনায় হল প্রশাসন হলের হাউজ টিউটরদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেআই
