সাইফউদ্দিনে উড়লো আবাহনী

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৩

স্পোর্টস রিপোর্টার

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কি না, এ নিয়ে আলোচনা বাড়ছিল। বলা হচ্ছিলো, তিনি বিশ্বকাপ খেলার মতো পুরো ফিট নন। কিন্তু গতকাল সোমবার মিরপুরে বল হাতে সব প্রশ্ন যেনো উড়িয়ে দিলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ৯ রানে পাঁচ উইকেটের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে আবাহনীকে আবার জয়ের পথে নিয়ে এলেন। প্রাইম দোলেশ্বরকে ১৬৫ রানে হারালো আবাহনী।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগে প্রথম ম্যাচে এই জয়টা আবাহনীর জন্য ছিলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্বের শেষ দুই ম্যাচে হেরে শিরোপার লড়াইয়ে একটু পিছিয়েই পড়েছিল তারা। এই সময় সুপার লিগে একটা ম্যাচেও পা ফসকানো মানে শিরোপা থেকে দূরে চলে যাওয়া। সেটা হতে দেয়নি আবাহনী। ওয়াসিম জাফর ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং এবং সাইফের বোলিং পথে রেখে তাদের। আগে ব্যাট করা আবাহনী ৪৯ ওভারে ২৫১ রানে অলআউট হয়েছিল। এই স্কোরটা আরো ছোট হতে পারতো। তাদের রক্ষা করেন ওয়াসিম জাফর ও শান্ত। মাত্র ১২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল আবাহনী। আবু জায়েদ রাহি তুলে নিয়েছিল সৌম্য সরকার ও তিন নম্বরে নামা মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট। আর ওপেনার জহুরুল ইসলামের উইকেট নেন ফরহাদ রেজা।

এখান থেকে ১৪৬ রানের জুটি করেন ওয়াসিম ও শান্ত। ওয়াসিম ৯৭ বলে ৭১ রান করে ফেরেন। অন্য দিকে শান্ত ৮৩ বলে ৭০ রান করেন। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে পুঁজিটা আরেকটু বড় করেন মিঠুন। তিনি ৪১ রান করে আউট হন। মাশরাফি করেন ২৪ রান।

আবাহনীর ২৫১ খুব বড় স্কোর নয়। কিন্তু এই স্কোরটাকেই পাহাড়ের মতো উঁচু করে ফেলেন সাইফ। তিনি তুলে নেন দোলেশ্বরের প্রথম পাঁচ উইকেটই। টানা ছয় ওভারের এক স্পেলে দুটি মেডেন নেন এবং ৯ রান খরচ করে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে দোলেশ্বরের স্বপ্ন শেষ করে দেন।

কাল সাইফ শুধু পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন তা নয়; গতি, সুইং ও আচমকা বাউন্স দিয়ে ম্যাচটাকে একেবারেই নিজের মুঠোয় পুরে ফেলেছিলেন। এটা ছিল লিস্টে ক্রিকেটে ক্যারিয়ার তার সেরা বোলিং। এর আগে ক্যারিয়ারে কখনো চার উইকেটও পাননি। ২৬ রানে তিন উইকেট ছিল ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সাইফের সেরা বোলিং। এবার সেই ফিগারটাকে ঈর্ষণীয় এক উচ্চতায় তুলে নিয়ে গেলেন। সেই সাথে নিশ্চয়ই তাকে নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নেরও জবাব দিয়ে ফেললেন।

সাইফউদ্দিনের এই তাণ্ডবের পর প্রাইম দোলেশ্বরের হাতে আক্ষরিক অর্থেই আর কোনো জবাব ছিল না। কেবল মাঝের দিকে এসে মাহমুদুল হাসান ২৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। কিন্তু বাকি কোনো ব্যাটসম্যান নিজেকে খুঁজেই পাননি। সাত ব্যাটসম্যান এক অঙ্কে আউট হয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী লিমিটেড: ৪৯ ওভারে ২৫১/১০ (ওয়াসিম জাফর ৭১, শান্ত ৭০, মিঠুন ৪১, মাশরাফি ২৪; রাহি ৩/৪৭, ফরহাদ রেজা ২/৪৩)।

প্রাইম দোলেশ্বর: ২৯.৪ ওভারে ৮৬/১০ (মাহমুদুল ২৭*; সাইফউদ্দিন ৫/৯, সানজামুল ২/২৩)।

ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ১৬৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাইফউদ্দিন।