আবাহনীর লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় জয়

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৫

ঢাকায় এসেই অনুশীলনে মিনার্ভা পাঞ্জাব

 স্পোর্টস রিপোর্টার

আবাহনী প্রথম ম্যাচে নেপালের মানাং মারশিয়াংদীর মাঠে পাওয়া জয়ী সূচনাকে ধরে রাখতে আগামীকাল বুধবার মিনার্ভা পাঞ্জাবকে আতিথ্য দেবে। প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসির সাথে ড্রয়ের পর ঢাকায় এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেলতে এসেছে পাঞ্জাবের দলটি। গত রবিবার এসে পৌঁছানোর পর অতিথি দলটি কাল আবাহনী মাঠে অনুশীলন করে।

মিনার্ভা ২০১৭-১৮ মৌসুমে আই লিগে শিরোপা জিতলেও চলতি মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে ভালো করতে পারেনি। তারা ১১ দলের লিগটি শেষ করেছে নবম হয়ে। তাছাড়া মাঠের বাইরেও গেল দুই সপ্তাহ তাদের বাজে সময় কেটেছে।

এএফসি কাপে অংশগ্রহণের জন্য ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামকে কাগজে কলমে নিজেদের ‘হোম’ ভেন্যু হিসেবে দেখিয়েছিল দলটি। কিন্তু কিছুদিন আগে সেটি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত হয়। ফলে ফিফার বেঁধে দেওয়া শর্তপূরণে পুনঃনির্মাণের প্রয়োজন পড়ে স্টেডিয়ামটির এবং উড়িষ্যা সরকার মিনার্ভার জন্যে সেটির বরাদ্দ বাতিলে বাধ্য হয়।

উড়িষ্যা সরকার অবশ্য ১ মে মানাং মারশিয়াংদীর বিপক্ষে ম্যাচটি আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।  তবে এরপর ক্লাবটিকে নতুন ভেন্যুর খোঁজে নামতে হবে ।

মাঠের বাইরের এসব সমস্যা আবাহনীর বিপক্ষে খেলায় প্রভাব ফেলবে না বলেই অভিমত দলটির মালিক রঞ্জিত বাজাজের। বরং তিনি মনে করেন আইএসএল শিরোপা জয়ী চেন্নাইয়িন এফসিকে রুখে দেওয়ার বিষয়টি তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে আবাহনীর বিরুদ্ধে।

কোচ শচীন বাদাড়ের কণ্ঠেও বাজলো একই সুর। তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দারুণভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। তিন পয়েন্ট অর্জনেই মনোযোগ থাকবে আমাদের।’

এদিকে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় শেষ পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে জয় পাওয়া আবাহনী এই ম্যাচেও পূর্ণ তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই খেলবে বলে জানালেন আবাহনী কোচ মারিও লেমোস।

পর্তুগীজ এই কোচ বলেন, ‘আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী। শেষ পাঁচ ম্যাচে জয়লাভ করেছি আমরা। (চেন্নাইয়িন এফসি ম্যাচ থেকে) এই ম্যাচটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে যাচ্ছে তাদের জন্য। আমাদের মাঠে খেলতে হবে তাদের, তারা বেশ উজ্জীবিত হয়েই আমাদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। তবে সতর্ক না হলে ঢাকায় তাদের দিনটি বেশ কঠিনই করে তুলবো আমরা।’

প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় পেয়েছিল আবাহনী। লেমোস জানালেন রক্ষণের ভুলে নয়, মনোযোগের অভাবেই গোলগুলো হজম করেছে তার দল। মিনার্ভার বিপক্ষে এমন কিছু থেকে বিরত থাকতে দলকে সতর্কও করে দিলেন তিনি।

স্বাগতিক কোচের ভাষায়, ‘আমি মনে করি সেটা মনোযোগের অভাবেই হয়েছে। শেষ বাঁশি বাজার ১৫ মিনিট আগেই ৪-১ এগিয়ে গিয়ে খেলোয়াড়রা ভেবেছিল যে ম্যাচটা তো জিতেই গিয়েছি! তারই সুযোগ নিয়ে ভেজা মাঠে প্রতিপক্ষ গোল করেছে। তখন সবাই ইতিমধ্যেই এএফসি কাপের কথা ভাবতে শুরু করেছিল। পেশাদার ফুটবলে এটা করতে পারেন না আপনি। মিনার্ভার বিপক্ষে এমনটা হতে দেওয়া চলবে না।’