বইমেলা শুধু বইয়ের বাণিজ্য মেলা নয়

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৪৬

কোনো উত্সব যখন পার্বণে পরিণত হয়, তখন তা হয়ে যায় জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। একুশের বইমেলা সেই অবস্থানে পৌঁছে গেছে। আমরা বলি যে পৃথিবীর সবচাইতে বড় এই বইমেলা। একমাস ধরে পৃথিবীর কোথাও বইমেলা চলে না। যতখানি চোখে দেখা যায়, তার চাইতে অনেক বেশি তাত্পর্যতা অর্জন করেছে এই বইমেলা। অনেকের কাছে বইমেলা শুধু বই বিক্রির মেলা। তা ধরলে এটাকে তো বলা যায় ‘বইয়ের বাণিজ্য মেলা’; কিন্তু বই বিক্রি করাতেই সীমাবদ্ধ নেই এই মহাযজ্ঞ।

এখানে সারাদেশ থেকে লেখক-কবি ও পাঠক আসেন। বিদেশ থেকে অনেক প্রবাসী দেশে আসার সময় বেছে নেন এই মাসটিকে। মানুষের এই একত্রিত   হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খণ্ড খণ্ড আলোচনা, বিতর্ক, মত বিনিময় থেকে গড়ে ওঠে কিছু কিছু কর্মসূচি। কিছু পাঠচক্র। কিছু নতুন পত্রিকা। আলোচনা কেবল বই নিয়ে নয়। দেশ নিয়ে, জাতি নিয়ে, আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ নিয়ে, তেল-গ্যাস-সুন্দরবন নিয়ে। সর্বোপরি দেশের জন্য কার্যকর কিছু কাজে বা আন্দোলনে কীভাবে আরো ভালোভাবে ভূমিকা পালন করা যায়— তা নিয়েও। এইসব আলোচনা থেকেই একদিন সূচনা হতে পারে সত্যিকারের বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথনির্দেশক কোনো কর্মসূচি। হয়তো বইমেলার সবচেয়ে ফলপ্রসূ অবদান হয়ে ওঠবে সেটাই।

আমি এমন একটি বইমেলা চাই, যেখানে যাওয়ার ইচ্ছা ক্রিয়াশীল থাকবে মানুষের মনে। আর বইমেলাতে ঢোকার সাথে সাথে তার কপাল থেকে মুছে যাবে দুশ্চিন্তার সব আঁকা-বাঁকা রেখা। বইয়ের সৌরভ তাকে স্বাগত জানাবে। মানুষ সেখানে পরিচিত হবে অচেনা বই ও অচেনা মানুষের সাথে। আমি এমন বইমেলা চাই, যেখানে কোনো লেখককে সংকুচিত থাকতে হবে না ঘাতকের চাপাতির ভয়ে। কোনো কর্তৃত্বকারী সংস্থার রক্তচক্ষু নিয়ে ভাবনাকূল থাকতে হবে না তাকে। আতঙ্ক থাকবে না বই নিষিদ্ধ হবার। কারো লালিত সংস্কার এবং প্রচলিত চিন্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোনো কোনো বই। এই প্রশ্নের অধিকারকে রুদ্ধ করে দিলে রুদ্ধ হয়ে যায় জাতির এগিয়ে যাওয়ার পথ। কোনো বই কারো কাছে অস্বস্তিকর মনে হলে সে পাল্টা বই লিখবে। অশালীন, নিম্নমানের বইও নিষিদ্ধ হবে না। তবে পাঠক বয়কট করবে তাকে। আমি এমন বইমেলা চাই, যেখানে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নারীর শরীরের দিকে এগিয়ে যাবে না কোনো কামুক হাত। নারী উপভোগ করতে পারবে বইমেলার নির্মল আনন্দ। কোনো শিশুর ভয় থাকবে না ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার।

ইত্তেফাক/নূহু