শিবির সন্দেহে ৯ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে পুলিশে দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ২৩১ ও ২৩২ নম্বর কক্ষে নিয়ে তাদেরকে প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে তুলে দেয় ছাত্রলীগ।বর্তমানে তারা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আটককৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের আরিফুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শাহরিয়ার তানজিম, দ্বিতীয় বর্ষের আব্দুল কাদের, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের মো. ইয়াকুব, সংস্কৃত ভাষা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মিজানুর রহমান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের মো. তুহিন, নগরীর লোকনাথ স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি এবং রাজশাহী সিটি কলেজের শিক্ষার্থী তন্ময়। এদের মধ্যে তুহিন, কাদের এবং ইয়াকুবের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বসে কথা বলছিলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তাদেরকে তুলে বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে যায়। হলের ২৩১ ও ২৩২ নম্বর কক্ষে নিয়ে তাদেরকে দেড়ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় ১৬ জনের মধ্যে ৯ জনকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশে সোপর্দ করেন। বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এহসান মাহফুজ বলেন, আমরা খবর পাই, শহীদ মিনারে ফোকাস কোচিংয়ের নামে শিবির মিটিং করছে। এরপর রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে আমরা তাদের আটক করি। জিজ্ঞাসাবাদ করে শিবিরের সঙ্গে ৯ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের পুলিশে দেয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষের বাকি ৭ শিক্ষার্থীর শিবির সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাদের আমরা প্রক্টর স্যারের জিম্মায় ছেড়ে দেই।
পুলিশে দেওয়াকালে আটককৃত মো. নোমান এবং গোলাম রাব্বি জানান, 'আমরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত। এবছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার ব্যাপারে আমরা কথা বলছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা আমাদেরকে হলে নিয়ে যায়। তারা আমাদের লোহার পাইপ এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, 'শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজনকে আটক করেছিলো। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ ও পুলিশের সহযোগিতায় আমরা তাদেরকে উদ্ধার করেছি।'
এব্যাপারে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহাদত হোসেন জানান, 'আটককৃত নয়জনকে চিকিৎসার জন্য আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অবস্থা স্বাভাবিক হলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।'
ইত্তেফাক/এসএস
