ছাত্রলীগের কথামতো বরাদ্দ পাওয়া আসন ছেড়ে গণরুমে না যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের এক আবাসিক ছাত্রকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার আশরাফুল ইসলাম আশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্রাটেজি অ্যান্ড লিডারশীপ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
ভূক্তভোগী জানান, মেধার ভিত্তিতে তিনি বিজয় একাত্তর হলের যমুনা ব্লকের ৭০০৮ নম্বর কক্ষের একটি আসন বরাদ্দ পান। কিন্তু ওই আসনটিতে হল সাধারণ সম্পাদক এইচ এম নয়ন হাওলাদার এর অনুসারীরা মার্কেটিং বিভাগের স্বাধীন নামে একজনকে তুলতে চায়।
এ উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হল শাখা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ নেতৃত্বে রনি, ইমরান, জাহিদ, বেলাল, মুবাশ্বির, সজিব, নাজমুল এরা ওই কক্ষ থেকে তাকে (আশরাফুলকে) তুলে নিয়ে একই ব্লকের ৫০০৬ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে লাইট বন্ধ করে রড দিয়ে কোমরের নিচের মাংসপেশিতে পেটানো হয়। মুখে, মাথায় অনবরত কিল-ঘুষি মারা হয়। আসন না ছাড়লে তারা তাকে শিবির তকমা লাগিয়ে সাত তলা থেকে ফেলে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়।
আশরাফুল তাদের কাছে গতকাল বুধবার তার পরীক্ষা শেষ করে কক্ষের আসন ছাড়তে চাইলেও ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা এসব না শুনে তাকে আরও মারধর করে। একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে গেলে একজন তাকে তার বরাদ্দ পাওয়া কক্ষে নিয়ে যায়। বুধবার সকালের দিকে ওই কক্ষের কয়েকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
আশরাফুল জানান, ছাত্রলীগের কথামতো আসন ছেড়ে গণরুমে না যাওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে। এর আগে তাকে নানা ধরনের ভয়-ভীতিও দেখানো হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। মারধরের বিষয়টি তিনি ওই ব্লকের আবাসিক শিক্ষক মো. রাশেদুর রহমানকে জানিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে আবাসিক শিক্ষক রাশেদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমি তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।
মারধরের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ বলেন, ওই ছেলে হলের বড় ভাইদের সালাম দিত না। এটা আমার কাছে তারা নালিশ করে। এজন্য আমি তাকে (আশরাফুলকে) গণরুমে রেখে ম্যানার ঠিক করার জন্য বলি। তাকে মারধর করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম নয়ন হাওলাদার বলেন, ওই পোলার সমস্যা আছে। সে কাউকে সালাম দিত না, গেস্টরুম করতো না। এজন্য হলের জুনিয়ররা তাকে গেস্টরুম করতে বলেছে। তাকে মারধর করা হয়নি।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিউল আলম ভূইয়াকে বিষয়টি অবহিত করালে তিনি দেখবেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/নূহু
