ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা ঘোষগাঁও কামাক্ষ্যা মাতৃ মন্দিরে দোল বা হোলি উৎসব পালিত হয়েছে।
আবিরে মন আর শরীর রাঙানোর পাশাপাশি, ব্যতিক্রমী আচার-আর্চনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুধু দেবতাকে রাঙিয়ে তোলা নয়, দোল উৎসবে মিশে গিয়েছিল জীবনের নানা রং। কামাক্ষ্যা মাতৃ মন্দিরের প্রাঙ্গন আবিরে রাঙা হয়েছিল। চালায় বাতাসা ছিটিয়ে, স্তুপ করা। মোম-আগরবাতি জ্বালিয়ে আর নানা রঙের আবিরে রাঙিয়ে রঙিন করে তোলা হয়েছিল সেখানকার পরিবেশ।
১৩শ’ বছরের পুরনো এই কামাক্ষ্যা মাতৃ মন্দিরটি বাংলা ১১৬ বঙ্গাব্দে নির্মিত হয়। মন্দিরটিকে ঘিরে রয়েছে নানা কিংবদন্তি। এপার-ওপার জুড়েই রয়েছে এর সুনাম ও ঐতিহ্য। এ জন্য আজ বৃহস্পতিবার দোলে ভক্তবৃন্দের বান ডেকেছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের ভক্তবৃন্দদের আগমনে মিলন মেলায় পরিণত হয় এই দোল উৎসব।
ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের কয়েক হাজার গারো, হাজং ও মান্দি পরিবার দোল উৎসবে আসে। তারা মন্দিরে পূজা-আর্চনা করে দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলায় কেনাকাটা করে। এ দেশের সনাতন ধর্মের অনেকেই ওপারে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে যায়।
ভারতের শীববাড়ি থেকে আসা স্কুল শিক্ষক শিলবে রিয়াজ সাংমা ও ব্যবসায়ী রণেশ সাংমা বলেন হোলি উৎসবে সীমান্ত কিছুটা শিথিল ছিল। বাঘমারা থেকে আসা কয়েক গারো নারী ও তরুণী একই কথা বলেছেন। উম্মুক্ত সীমান্ত এপার-ওপার বাংলার হৃদ্যতার বন্ধন।
আয়োজকরা বলছেন, সার্বজনীন এই দোল উৎসবে অর্ধলাখের বেশি মানুষের সমাগম হয়। তারা একে অপরকে আবিরে রাঙিয়ে তোলেন। দোল বা হোলি উৎসবকে ঘিরে মন্দিরের চর্তুদিকে মেলা বসে। মেলায় নাগরদোলা, কিংবা ছোটদের মনোরঞ্জনের হরেক উপকরণ পাওয়া যায়। পাওয়া যায় প্লাষ্টিকের বাসনপত্র, মুড়ি-মুরকি থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিস।
ইত্তেফাক/নূহু
