কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি সিদ্ধান্তহীনতায়

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৮, ০৯:১৮
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। গত তিন সপ্তাহে তার মুক্তির দাবিতে ১১ টি কর্মসূচী পালন করেছে দলটি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার লিফলেট বিতরন হয়েছে। এরপর নতুন করে কোন কর্মসুচী ঘোষনা করতে পারেননি নেতারা। কর্মসূচি নির্ধারনে কোন বৈঠকও হয়নি। পরবর্তীতে কি কর্মসূচি গ্রহণ করা যায় তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে দলটি। ইতিমধ্যে আগামী ১২ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ঘোষনা দিলেও অনুমতি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন নেতারা। কারন গত ২২ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ের সামনে জনসভা করতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। গত শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখে দাড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি করতে গিয়ে জলকামান-টিয়ারগ্যাস-লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন নেতা-কর্মীরা। আটক হয়েছেন ৫৫ নেতা-কর্মী। আহত হয়েছেন অনেকে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতাও জলকামানে আক্রান্ত হন। লিফলেট বিতরন কর্মসূচিতেও বিভিন্ন স্থানে বাধা পেয়েছেন তারা। ফলে নতুন কর্মসুচী নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেছেন নীতিনির্ধারকরা।
 
দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন,কি কর্মসুচি দিবো? আমাদের ঘরের ভেতরও সভা করতে অসুবিধা হচ্ছে। আমরা মানববন্ধন করতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছি। আমরা লিফলেট বিলি করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচি বিএনপি করতে পারছে না। ফুটপাতে দাড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করলেও সেখানে জলকামান থেকে শুরু করে লাঠিপেটা ও গ্রেফতার করা হয়েছে। সুতরাং বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে। কর্মকৌশল নির্ধারন ও কর্মসূচি প্রনয়নে আজ শনিবার দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান,দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। আজ বৈঠকে তার টেলিকনফারেন্স করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান,বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মাঠে থাকা,দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
 
দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, এখন তাদের সমস্ত মনোযোগ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। এজন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ’অহিংস আন্দোলন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতেও বড় শো-ডাউন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় উন্মুক্ত স্থানে জনসভার অনুমতি না পাওয়া গেলে বিকল্প হিসেবে আপাতত: খুলনা অথবা বরিশালে জনসভা করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। খুলনায় আগামী ১০ মার্চ জনসভা অনুষ্ঠানের একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
 
খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু  বলেন,আমরা জনসভার জন্য প্রস্তুত আছি। কেন্দ্রীয়ভাবে দিনক্ষন চুড়ান্ত করে জানালেই জনসভা হবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন,বরিশালে জনসভা করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে আলোচনা করা হয়েছে। তবে চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত পাইনি। 
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে জনসভার অনুমতি পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে একই স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েও পাইনি। আমাদেরকে উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ করতে দিচ্ছে না।
 
এদিকে জানা গেছে,আজকে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠকের মূল এজেন্ডা রাখা হয়েছে,বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি প্রণয়ন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু সেটাও করতে বাধা দিচ্ছে সরকার। আমরা যে কর্মসুচি দিচ্ছি তা পালন করতে দিচ্ছে না। উন্মুক্ত স্থানে জনসভা করার অনুমতি চাইলেও পাচ্ছি না। কর্মসূচি দিলেই কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। তাহলে আমরা কি করবো? একদিকে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে অন্যদিকে গণতন্ত্রের সব পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে সরকার। সরকার নাশকতার জন্য আমাদের নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নেতা-কর্মীরা রাজপথে সক্রিয় আছেন। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিএনপি আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।
 
এপ্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,চেয়ারপারসনের নির্দেশে আমরা শান্তিপূর্ণ পথেই চলবো। কিন্তু এই শান্তিপুর্ন কর্মসূচি পছন্দ করছে না সরকার। তারা অন্য কিছু চাচ্ছে। কোন কর্মসুচীই আমাদের পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। ঘরোয়া পরিবেশেও সভা করতে অসুবিধার সৃস্টি করা হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছি। শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচিই বিএনপি করতে পারছে না। রাস্তায় নয়, ফুটপাতে দাড়িয়ে কালোপতাকা প্রদর্শন করছি। সেখানেও লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হচ্ছে। জলকামান থেকে রঙিন গরম পানি মারা হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে আমাদের নেতাদের। আহত করা হচ্ছে। তাহলে আমরা কি করবো?  তিনি বলেন,তারপরও আমাদের বসিয়ে রাখা যাবে না।
 
১২ মার্চ সোহরাওয়ার্দীতে জনসভার অনুমতি চেয়ে আবেদন
 
এদিকে গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,আমরা আগে ১১ মার্চ জনসভার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু একদিন পিছিয়ে আগামী ১২ মার্চ এ জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমাবেশের অনুমতি দিবে। তিনি বলেন, জনসভা করার জন্য আমরা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছি।