থানায় হত্যা মামলা ভুয়া চিকিত্সক আটক
মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা
মণিরামপুরে মনোয়ারা ক্লিনিকে সন্তান প্রসব করতে এসে ভুল চিকিত্সায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহত প্রসূতি সামছুন্নাহারের স্বামী আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার সূত্রধরে শনিবার রাতে পুলিশ ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকের মালিক কথিত সার্জিক্যাল চিকিত্সক আব্দুল হাইকে আটক করেছেন।
আটক কথিত চিকিত্সক আব্দুল হাই উপজেলার জামজামি গ্রামের মৃত আফসার আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নিজে চিকিত্সক না হলেও সার্জিক্যাল চিকিত্সক সেজে বহুদিন ধরে রোগী ও রোগীর স্বজনদের ধোঁকা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকার সুব্রত মহলদার, মণিরামপুর উপজেলার কাজির গ্রামের শরিফুল ইসলাম, সুবলকাঠি গ্রামের সাইফুল ইসলাম, জয়পুর গ্রামের মোন্তাজ হোসেন, স্বরুপদহ গ্রামের তানিয়া সুলতানা হালিমা, হাসাডাঙ্গার নাসিমা খাতুন, সদর উপজেলার সিরাজসিংহ গ্রামের দীপা খাতুন, রামনগর গ্রামের মঞ্জুয়ারা খাতুন এবং ভুয়া চিকিত্সক আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন।
এদিকে চিকিত্সক গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন স্বজনরা। গ্রেপ্তার আতঙ্কে অন্য আসামিরা ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়েছেন।
থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জয়পুর গ্রামের আসাদুজ্জামানের স্ত্রী সামছুন্নাহারের প্রসব বেদনা ওঠে। তখন সে তার স্ত্রীকে পৌর শহরের মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় গেটে অবস্থিত মনোয়ারা ক্লিনিকে ভর্তি করান। বাইরে থেকে ডাক্তার আনার কথা বলে সাড়ে ১১ হাজার টাকা চুক্তিতে সিজারের কথা বলে ক্লিনিকের মালিক আব্দুল হাই রোগীকে ভর্তি করান। কিন্তু রাত গড়ালেও কোনো ডাক্তার আসেননি। অবশেষে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকের মালিক আব্দুল হাই নিজেই সার্জিক্যাল চিকিত্সক সেজে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে সামসুন্নাহারের অপারেশন করান। সিজারিয়ানের মাধ্যমে সামছুন্নাহার একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। আব্দুল হাইয়ের সহযোগীরা সেই নবজাতককে এনে পিতা আসাদুজ্জামানের কোলে দেন।
