আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে খেলতে চায় না :নাসিম

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৮, ২৩:৪১

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে খেলতে চায় না। আগামী নির্বাচনে আমরা আমরা সকল দলের অংশগ্রহণ চাই। আমরা ভাল খেলে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করে হ্যাট্রিক করতে চাই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় জেলে গেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়াতেই তাকে মুক্ত হতে হবে। কিন্তু বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ চান খালেদা জিয়া জেলে থাকুন। আর সেজন্যই তিনি বলেছেন, বেগম জিয়া জেলে থাকায় প্রতিদিন তার দশ লাখ করে ভোট বাড়ছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার এভাবে ভোট বাড়তে থাকলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ভোট পাবে ৩০ কোটি। কিন্তু দেশে ভোটারের সংখ্যা নয় কোটি। আর আমাদের ভোট গেল কোথায়?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করতে চায় না। নির্বাচন নিয়ে অন্য কোনো ধরনের চিন্তা করে লাভ নেই। কারণ যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সময় থাকতে আপনারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। আমরা সকল দলের অংশগ্রহণে একটি ভালো নির্বাচন করতে চাই।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একটি দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে নানা ভুল-ত্রুটি হয়, দলের জনপ্রিয়তা বাড়ে-কমে। কিন্তু আমি গ্রামে গিয়ে দেখেছি গ্রামের মানুষ ভালো আছে। তারা সরকারের ওপর খুশি। এখন আওয়ামী লীগকে শহরের মানুষের কাছে বিশেষ করে ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে যেতে হবে। শহরের মানুষের মন জয় করতে পারলে আওয়ামী লীগের বিজয় ঠেকানোর মতো শক্তি আর কোনো দলের নেই।

৭ মার্চের জনসভা সফল করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগের জনসভা যত বড় হবে শত্রুদের হূদকম্পন তত বাড়বে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এমন একটি দিন যা আর কখনো জাতির ইতিহাসে আসবে না। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ এ দেশের প্রতিটি মানুষকে শিহরিত করে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একাত্তরে শত্রু চেনা যেত, এখন শত্রুদের চেনা যায় না। আমাদের নিজেদের মধ্যেই শত্রু আছে। তারা এখনো সক্রিয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চক্রান্ত অপেক্ষা করছে। অধ্যাপক জাফর ইকবাল বসে ছিলেন এক অনুষ্ঠানে। পেছন থেকে তার ওপর হামলা হয়েছে। এখন আমার পেছনে যারা দাঁড়িয়ে তারা আমার কর্মী। পেছন দিয়ে কেউ যদি মেরে বসে, কী করবেন?’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

এর আগে সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)  শহীদ ডা. মিলন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রয়াত উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়ার (স্বপন) স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএমএ মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল প্রমুখ।

ইত্তেফাক/নূহু