তিন আসামির ফাঁসির আদেশ, ৮ জন খালাস

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। সোমবার দুপুরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে বিএনপি নেতাসহ এ মামলার অপর ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে দণ্ডিতরা হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টু, রাজশাহীর কাটাখালি পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম মানিক ও যুবদল কর্মী সবুজ শেখ। তবে আসামি সবুজ শেখ এখনো পলাতক। অপর দুই আসামি রায়ের সময় আদালতে হাজির ছিলেন।

বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পিন্টুর স্ত্রী, রাবির হিসাব   কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমা, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, সিরাজুল ইসলাম, আল মামুন, আরিফ হোসেন, সাগর হোসেন, জিন্নাত আলী ও ইব্রাহিম খলিল ওরফে টোকাই বাবু।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাসার সামনে দূর্বৃত্তরা ড. শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথমে সন্দেহের তীর জঙ্গিদের দিকে গেলেও পরে পুলিশের চার্জশিটে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত নাসরিন আখতারের সঙ্গে শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জের ধরেই তার স্বামী যুবদল নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’ পরে নাসরিন আখতারও বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক। তবে  রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক শফিউলের ছেলে সৌমিন শাহরিদ। তিনি বলেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে গভীরে যাওয়া হয়নি। সুযোগ থাকলে হত্যার কারণ নিয়ে অধিকতর তদন্তের দাবি জানান তিনি। এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম মুর্তুজা বলেন, ওই তিনজনের সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।