বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য আলোচনার উদ্দেশ্যে নেদারল্যান্ডের দি হেগ-এ বাংলাদেশ দূতাবাসে স্থানীয় সময় বুধবার এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কর্মব্যস্ত দিনে আলোচনা সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ ছাড়াও প্রায় ৩০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ভাষণের পটভূমি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব- শীর্ষক আলোচনায় নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং হল্যান্ড আওয়ামী-লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মূল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ৭ মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। হল্যান্ড আওয়ামী-লীগের নেতাগণ তাদের বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অকুতোভয় নেতৃত্ব, অপরিসীম আত্মত্যাগ, বিচক্ষণ দূরদৃষ্টি, সাহসিকতা, প্রগতিশীল মনোভাব, দেশপ্রেম, মানবিক গুণাবলী প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ভাষণের পটভূমি এবং বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ভাষণকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ৪৭ বছর পূর্বে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত সেই উপস্থিত বক্তব্য তৎকালীন সময়ে কেবল বাঙালিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়নি সম্প্রতি এই ভাষণ বিশ্বের কাছে এক অনন্য দালিলিক ঐতিহ্য হিসেবে নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউনেস্কো কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটিকে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক ঐতিহ্য হিসেবে মর্যাদা প্রদান আমাদের সকলের জন্য এক বিরল সম্মান বয়ে এনেছে। ১৯৭১ এর বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সেই ভাষণে একদিকে যেমন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার নিপীড়ন উল্লেখিত হয় তেমনি মুক্তিকামী বাঙালীর জন্য ভাষণটি ছিল দিকনির্দেশনার শামিল। সকল বাঁধা উপেক্ষা করে মুক্তিকামী লাখো বাঙালি সেদিনের জনসভায় তার নেতৃত্বপূর্ণ বক্তব্য শোনার জন্যই উপস্থিত হয়েছিল। যুগান্তকারী এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সকলের জন্য উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাই আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মহান মুক্তিযুদ্ধে এই ভাষণের অবদান অপরিসীম।
রাষ্ট্রদূত বেলাল আরো উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক এই ভাষণের তাৎপর্য নেদারল্যান্ডের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় দূতাবাস ভাষণটি ডাচ ভাষায় অনুবাদ করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠান শেষে ডাচ ভাষায় অনুবাদকৃত ভাষণটি উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
পরিশেষে, ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা আয়োজন এবং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণটি ডাচ ভাষায় অনুবাদ করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।
ইত্তেফাক/এসএস
