স্ত্রী হাসিন জাহানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দলের পেসার মহম্মদ সামির বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে।
হাসিনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সামির বিরুদ্ধে নির্যাতন, মারধর, খুনের চেষ্টা, ধর্ষণ, ভীতি প্রদর্শন, বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগে যাদবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারেই নিজের আইনজীবীকে নিয়ে লালবাজারে হাজির হয়েছিলেন সামির স্ত্রী হাসিন। সেখানে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে সামির একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রটি তিনি পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে লেখেন। তার এই অভিযোগপত্রটি যাতে এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হয় সেই অনুরোধও জানান হাসিন।
গোয়েন্দা প্রধান প্রবীণ ত্রিপাঠী বলেন, ‘সামির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখছি।’
সামি এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের আমরোহার দাদোলির বাড়িতে। স্ত্রী লালবাজার থেকে বেরনোর কিছু ক্ষণের মধ্যেই কয়েকটি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেন সামি। তিনি বলেন, ‘অনেক অভিযোগই ও করে চলেছে। সব কিছু প্রমাণ করার দায় ওর।’
হাসিন বলেন, ‘ফেসবুকে আমি যা কিছু পোস্ট করেছি, সেটা সামান্য মাত্র৷ আসলে সামি যেটা করে আসছে, তা আরও ঘৃণ্য৷ অনেক নারীর সঙ্গে ওর সম্পর্ক রয়েছে৷ সামি ও ওর পরিবারের প্রত্যেকেই আমার উপর নির্যাতন করত৷ ওর মা ও ভাই প্রায়শই হেনস্থা করত আমাকে৷ রাত ২-৩টা পর্যন্ত আমার উপর অত্যাচার চলত৷ আমাকে মেরে ফেলতেও চেয়েছিল ওরা৷’
সামির হেনস্থা শেষ পর্যন্ত চরমে ওঠে বলেও জানিয়েছেন হাসিন৷ তিনি বলেন, ‘ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরেও আমাকে মারধর করে৷বেশ কিছুদিন ধরেই এটা চলছে৷ আমার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে৷পরিবার ও মেয়ের কথা ভেবে আমি নিজেকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি৷ সমঝোতার আর কোনও রাস্তাই খোলা ছিল না আমার সামনে৷ বাধ্য হয়েই আমি আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবি৷’
এদিকে সামির বিরুদ্ধে মামলার পর ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড-এর সেন্ট্রাল কন্ট্র্যাক্টে জায়গা হয়নি সামির।
ইত্তেফাক/ ইউবি
