ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ধর্মীয় রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্ম নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমসহ অন্যান্যরা ঘৃণার রাজনীতির শিকার হচ্ছেন। ঘৃণার রাজনীতিতে উদাসীন থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তিরস্কার করেছে সর্বোচ্চ আদালত। সেই তিরস্কারের ঢেউ আঘাত করেছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং মায়াবতীর ওপর। তাদের প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কমিশন। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে আজম খান ও মানেকা গান্ধীর প্রচারণায়ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কমিশন।
এদিকে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তামিলনাড়ুর ভেলোরের আসনের ভোট বাতিল করছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন, বাংলায় ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। কেবল ঘৃণার রাজনীতি নয়, রবিবারের প্রচারণায় স্থান করে নিয়েছিল বাঙালির প্রিয় উত্সব নববর্ষ।
প্রচারণায় নিষিদ্ধ যোগী, মায়াবতী, আজম খান ও মানেকা
ভোটে রাজনীতিকদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য নিয়ে সমপ্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়। এ বিষয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশনকে তিরস্কার করে শীর্ষ আদালত। না ঘুমিয়ে দায়িত্ব পালন করতে কমিশনের প্রতি নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে ১৬ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ৭২ ঘণ্টা এবং একই সময় থেকে মায়াবতীর উপর ৪৮ ঘন্টার নিষেধাজ্ঞা দেয় কমিশন। নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের জন্য সমাজবাদী নেতা আজম খান এবং মানেক গান্ধীকে তিন দিনের জন্য প্রচারণায় নিষিদ্ধ করা হয়।
ধর্ম নিয়ে মমতার হুঁশিয়ারি
বাংলার মাটিতে বিজেপিকে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা ব্যানার্জি দার্জিলিংয়ে এক সমাবেশে বলেন, মানুষকে বিপথগামী করতেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। তারা ধর্মের নামে নোংরা রাজনীতি করে মানুষকে ভুলপথে চালিত করার চেষ্টা করছে। এর কয়েকদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে এক সমাবেশে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদের বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
মোদি ভুয়া জাতীয়তাবাদী : প্রিয়াংকা
প্রিয়াংকা গান্ধী উত্তরপ্রদেশে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপিকে ভুয়া জাতীয়তাবাদী উল্লেখ করে বলেন, সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী হলে ভোটের প্রচারে পাকিস্তান নিয়ে কথা না বলে সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরত বিজেপি। -এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা
