টিআর-কাবিখা বন্ধ করে দেওয়া উচিত্ :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৮, ০০:০২

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে টিআর, কাবিখা বন্ধ করে দেওয়া উচিত্ বলে আমি মনে করি। কারণ এসব ক্ষেত্রে চুরি-চামারি বেশি হয়। আমি এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গেও কথা বলেছি। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

গতকাল শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে কয়েকটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টিআর, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) যা এখন কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), ৪০ দিনের ও ১০০ দিনের কর্মসৃজনী প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করে এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, রুস্তম আলী ফরাজি, উপাধ্যাক্ষ মো. আব্দুস শহীদ, আব্দুর রউফ, সামশুল হক চৌধুরী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দরিদ্র্যদের সহায়তার জন্য ভিন্ন চিন্তা করছি। ইতিমধ্যে ৫০ লাখ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আওতা প্রয়োজনে আরো বাড়ানো হবে। প্রাক বাজেট আলোচনার শুরুতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যেই থাকবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ৪০ টাকার নীচে চালের দাম নামবে না, অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য আমি মানতে পারছি না। কারণ আমার হিসাবে এক কেজি চালের উত্পাদন খরচ ২২ থেকে ২৩ টাকা। ভোক্তা পর্যায়ে পৌছাতে এটি কোনভাবেই ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। অথচ চালের দাম ৫০ টাকার ওপরে উঠে যাচ্ছে। এজন্য মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা দায়ী। ব্যাংকিং খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর হাতে কী আলাদিনের চেরাগ আছে! তারা মাত্র ৬০-৭০টি শাখা নিয়ে শত কোটি টাকা মুনাফা করছে। সুদ হার বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া তারা অযৌক্তিক সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে। চালের দামের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা কমিটি রয়েছে যারা বলেছে, চালের দাম ৪০ টাকার ওপরে থাকা যুুক্তি সঙ্গত।

মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম (বীরউত্তম) বলেন, এক হাজার টাকার নোট বাতিল হওয়ার খবর বেরুচ্ছে। সত্যিই যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তবে তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। তাত্ক্ষণিক জবাবে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দিস নিউজ ইজ অ্যাবসালুটলি বোগাস। এইটা সত্যিকার অর্থেই রাবিশ। এই ধরনের কোন কিছুই ঘটে নাই।

ইত্তেফাক/নূহু