‘শব্দ দূষণ মুক্ত শিশু বান্ধব নগর ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তারা বলেছেন, শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শব্দ দূষণ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্তরায়। দেশের বিশাল জনসংখ্যার একটি অংশ প্রতিনিয়ত উচ্চ মাত্রার শব্দ দূষনের মধ্যে বসবাস করছে, যা শিশুদের এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার শব্দের মাত্রাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছে।
সোমবার সকালে রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ওয়াচ (ডিএমওয়াচ)। সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএমওয়াচের ম্যানেজিং পার্টনার মো. বায়েজীদ হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন-ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা, রাজউকের সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ আবু কাউসার, জা.বি. অধ্যাপক গোলাম মঈনদ্দিন, স্থপতি শাহজাবিন কবির, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ, ইউএনডিপি’র প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর মৌসুমী প্রমুখ। এছাড়াও সংলাপটিতে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ণ সংস্থা, নগর পরিকল্পনাবিদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দসহ ডিএমওয়াচ এর কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা শহরের শব্দ দূষনের মাত্রা নিরূপণ এবং শিশু স্বাস্থ্যে এর প্রভাব বিষয়ক একটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন রাজু আহমেদ মাসুম। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়- ঢাকার শহরের বিভিন্ন স্থানেই উচ্চমাত্রার শব্দ পরিলক্ষিত হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থান গুলোতে গড় শব্দের মাত্রা ৮৪.০৮ ডেসিবেল পাওয়া গেছে যা অনুমোদিত শব্দের মাত্রা ৫০ ডেসিবেল থেকে বেশী। আবাসিক, বিনোদনমূলক এবং শিল্পপন্য উৎপাদন এলাকায় পরিমাপকৃত শব্দের গড় মাত্রা ৮৩.৫ ডেসিবেল পাওয়া গেছে, যা এ ধরনের এলাকার জন্য অনুমোদিত ৬০ ডেসিবেল শব্দ-মাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশী। ৪৫ ডেসিবেলের চেয়ে উচ্চমাত্রার শব্দে নবজাতকদের রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন এবং শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয়ে থাকে। এছাড়া যে ব্যক্তি ৩০ মিনিট ১০০ ডেসিবল মাত্রার শব্দের মধ্যে থাকলে তার স্থায়ী ভাবে বধির হবার সম্ভবনা রয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ পরিবেশ অধিদপ্তরের শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তাবিত শব্দ দূষণ প্রতিরোধমূলক প্রকল্পটিতে উপস্থিত অংশীজনের সমন্বয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক, কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইত্তেফাক/এমআই
