কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গমের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি। এ অঞ্চলের মানুষ সাধারণত রবি শস্যের উপর নির্ভরশীল। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিস্তৃত কৃষকের মাঠে মাঠে দু-চোখ জুড়ানো হলুদে ফুলের সমারোহ। যেন চারিদিকে গমের হলুদে রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ আর মাঠ। নয়ন জুড়ানো দৃশ্য মেতে উঠেছে ফসলের মাঠে। এখন মাঠ জুড়ে হলুদে রঙে সাজিয়ে তুলেছে প্রকৃতির অপরূপ রূপ।
চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে গমের আবাদ গত বছরের চেয়ে ভাল ফলন হয়েছে। গমের বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সরাসরি কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে। পাশাপাশি কৃষকদের গম ক্ষেত দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। কিছু দিনের মধ্যেই কৃষকরা গমের ফসল ঘরে তুলবেন। গমের বাম্পার ফলন দেখা দেওয়ায় কৃষকরা ভালো দামের স্বপ্ন দেখছেন। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১৪ মন হারে ফলন হতে পারে বলে জানান কৃষি অফিস ও প্রান্তিক কৃষকরা।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আবুল কাশেম ও নরেশ চন্দ্র জানান কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উন্নতমানের গম বীজ ফলানো হয়েছে। বিঘা প্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং এ বছর গমের বাম্পার ফলন দেখা দিয়েছে। তবে গমের দাম নিয়ে দু:চিন্তায় পড়েছি। চলতি মৌসুমে যদি গমের ভাল দাম না হয় তাহলে গম চাষিদের লোকসান গুনতে হবে। কৃষকরা গম চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আমির আলী ও আজিজুল হক জানান,গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি বিঘা প্রতি ১৪ থেকে ১৫ মন করে গমের ফলন আসবে। গমের দাম ভাল পাওয়া গেলে কৃষকরা লাভবান হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলার ৪২০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ করা হয়েছে। এবারে ভাল ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল গম বীজ দিয়ে কৃষকরা ফসল ফলিয়েছে। সাথে কৃষি অফিস সব সময় মাঠে গিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে । আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর গমের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর গমের আবাদ কমেছে। তবে কৃষকরা এ বছর ভাল দাম পেলেই আগামী বছরের আবারও গমের ফলন বাড়বে।
ইত্তেফাক/রেজা
