১১ দফা দাবীতে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:০৭

নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধসহ ১১ দফা দাবীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নৌযান শ্রমিকদের অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে শ্রমিকরা। কেন্দ্রীয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সোমবার রাত ১২টা ১মিনিট থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আটকা পড়েছে দুই শতাধিক মালবাহী কার্গোজাহাজ।

নৌযান শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান ও হয়রানি বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা, নদীতে প্রয়োজনীয় মার্ক, বয়া ও বাতি স্থাপন। এ কর্মবিরতিতে লঞ্চ, বাল্কহেড, তেলবাহী ট্যাংকার, বালুবাহী নৌকা, লাইটার জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযান শ্রমিকরা একাত্বতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি পালন করছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পন্য নিয়ে আসা প্রায় দু শতাধিক কার্গো জাহাজ আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আটকে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে আশুগঞ্জের সঙ্গে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ৬টি নৌ-রুটের ৫ জেলা সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪ উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লঞ্চ যাএীদের। বন্ধ হয়ে গেছে নদী বন্দরের সকল প্রকার কার্যক্রম। বেকার হয়ে পড়েছে বন্দরের প্রায় ৫শতাধিক শ্রমিক। 

আরও পড়ুন:  নাগেশ্বরীতে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক এ. কে. এম হাবিবুল্লাহ বাহার জানান, 'নৌযান শ্রমিকেরা ১১ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মবিরতি শুরু করেছে। ন্যায্য দাবি না মানা হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে'।

পূবাঞ্চলীয় কার্গো মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. নাজমুল হোসাইন হামদু জানান, 'ধর্মঘটের কারণে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত জরুরি কাচাঁমাল নিয়ে জাহাজ আটকা পড়ায় মালামাল পরিবহণে ব্যাহত হচ্ছে। এ মুহুর্তে জাহাজ বন্ধ থাকলে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবো'।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি