ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৮, ২৩:৪১

যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস ভিয়েনা।
 

অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার হউফসাইলস্থ বাংলাদেশ দূতালয়ে ১৭ মার্চ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাঙালিদের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে প্রামান্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও কর্ম-নির্ভর কবিতা আবৃত্তি এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে শিশু-কিশোররা প্রবন্ধ পাঠ করে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো: আবু জাফর, সঞ্চালনা করেন কাউন্সেলর ও চ্যান্সারী প্রধান রাহাত বিন জামান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং অষ্ট্রিয়া প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী, লেখক, সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির, সহ-সভাপতি রুহী দাস সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্ট্রিয়া ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা বায়েজিদ মীর, বাংলাদেশ-অস্ট্রিয়া সমিতির সহ-সভাপতি বখতিয়ার রানা, আহাদ চৌধুরী প্রমুখ।
IMG0
রাষ্ট্রদূত মো: আবু জাফর তাঁর বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত দেশের পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর বিরল নেতৃত্বসুলভ উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর  অতুলনীয় দেশপ্রেম ও শিশুদের প্রতি গভীর মমত্ববোধের দৃষ্টান্ত অনুসরণের জন্য এবং তাঁর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য তিনি সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।

এম. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর  নামের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির আত্মপরিচয়। তাঁকে নিয়ে বাঙালির অহংকার কোনোদিন ফুরোবে না। এমনই বিশাল ব্যক্তিত্ব তিনি, মৃত্যুর চার দশক পরও তাঁকে আবিষ্কার করতে হয় নতুন করে। আমরা বাঙালিরা গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করি বঙ্গবন্ধুর নাম। তিনি বাঙালি জাতিকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন অসম্ভবের পথ। জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশের। বাঙালির চেতনায় বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল।’

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অংশগ্রহনকারী শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রদূতের সহধমিনী সালমা আহমেদ জাফর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন, দূতাবাসের প্রথম সচিব মিস মালিহা শাহজাহান।

অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসী শিল্পীবৃন্দ।

ইত্তেফাক/নূহু