গতকাল শনিবার ছিল স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। এ উপলক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের সাথে রাজধানীর বিভিন্ন শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন-প্রতিষ্ঠানগুলোও পালন করলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এবারের এ জন্মবার্ষিকী। সকাল থেকেই রাত অবধি অনুষ্ঠিত এসব বহুমাত্রিক আয়োজনে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন-প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে জাতির জনককে।
শিশুদের ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধু : জন্মদিনে জাতির জনককে ক্যানভাসে মেলে ধরেছে খুদে শিল্পীরা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে শিশু মনের কল্পনায় রং-তুলির আঁচড়ে উদ্ভাসিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু। সেই সঙ্গে ছিল কমিকস প্রতিযোগিতা। ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)’। গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’র মতো করে কার্টুন চরিত্রে শিশু চিত্রকররা তুলে আনেন বঙ্গবন্ধুকে। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আরও ছিল বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও তার উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র, জীবনপঞ্জির নানা ডিসপ্লে ও অডিও ভিজুয়াল প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও জাদুঘরে আসা শিশুদের জন্য ছিলো দেয়ালে ও ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুকে ফুটিয়ে তোলার বিশেষ ব্যবস্থা।
এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। তিনি বলেন, আমাদের আশা ছিলো শিশুদের মনের মাঝে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখা। বাচ্চাদের আঁকা ছবিতে তাই দেখতে পাচ্ছি। শিশু-কিশোরদের কাছে তাদের মত করে শেখ মুজিবুর রহমানকে উপস্থাপনের জন্য গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ প্রকাশ করা হয়।
এর পর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিজয়ী ছয়জনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। পাশাপাশি গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’র ফেসবুক পেজে হয়ে যাওয়া এক কুইজ প্রতিযোগিতার তিন বিজয়ীর হাতেও পুরস্কার তুলে দেন।
শিল্পকলা একাডেমি’র—বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উত্সব : বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে ৭ মার্চ থেকে শুরু হয় বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উত্সব। এ উত্সবের শেষ দিন ছিল শনিবার। সমাপনী আয়োজনে ছিল আড়াই হাজার বর্গফুট ক্যানভাসে সহস্রাধিক শিশুর চিত্রাঙ্কন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন, ক্লাউন শো, মুখোশ নাট্য ও অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীসহ শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জাদুঘরের—বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা পাঠ : বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা পাঠের আসর।
কচি-কাঁচার মেলা : জাতীয় শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা বিকালে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেগুন বাগিচার মেলা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, মেলার সহ-সভাপতি কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডি.ডি. ঘোষাল এবং শিশু বক্তা নুসাইবা তাহসিন।
বাংলা একাডেমি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি গতকাল আয়োজন করেছিল দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের।
শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান-বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো : সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো শীর্ষক শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান।
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক একক বক্তৃতানুষ্ঠান : বিকালে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : শোষিত-বঞ্চিত মানুষের নেতা শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বক্তৃতা প্রদান করেন কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ।
ইত্তেফাক/আনিসুর
