টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলাম ফরিদ হত্যা মামলায় পলাতক চার আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারজানা হাসনাত আসামিদের কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। এর আগে আগে তারা আদালতে অত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
চার আসামি হচ্ছেন, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদ মিয়া (ভোলা) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মাসুদুল হক টুকু, আলমগীর হোসেন ও অনিক হাসান।
টাঙ্গাইল কোর্ট পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ফরিদ হত্যা মামলার চারজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তারা সোমবার দুপুরে চার আসামী সেচ্ছায় ভূঞাপুর-দেলদুয়ার আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। পরে আদালতের বিচারক ফারজানা হাসনাত উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালর ৫ ডিসেম্বর রাতে নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রকিবুল ইসলাম ফরিদ নিখোঁজ হন। পরদিন তার বাড়ির পার্শ্বে একটি পুকুর পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই তার ভাই ফজলুল করিম বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তিনি তাহেরুল ইসলাম তোতা, আব্দুল হামিদ ভোলা ও নুরুল ইসলামসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে একটি সম্পুরক মামলা করেন। আদালত দুটি মামলা একসাথে তদন্তের নির্দেশ দেন।
২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলাটি তদন্তের জন্য ভূঞাপুর থানা থেকে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তকালে আটজন আসামি গ্রেপ্তার হয়। এদের মধ্যে মাঈনুল হোসেন, শওকত হোসেন, মকবুল হোসেন তরফদার, নাসির উদ্দিন রানা ও নুরুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। এর পর থেকেই ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদ মিয়া (ভোলা) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মাসুদুল হক টুকু, আলমগীর হোসেন ও অনিক হাসান আত্মগোপনে চলে যান।
ইত্তেফাক/কেআই
