উত্তরায় বৃক্ষ নিধনে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৮, ০১:৫৪

রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর সড়কের পাশের সবুজ বৃক্ষ ব্যাপক হারে নিধন করা হচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে লাগানো বৃক্ষগুলো কাটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে পরিবেশবাদীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সড়ক ও ফুটপাত প্রশস্ত করার জন্য গাছগুলো কাটছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গাছ কাটার পেছনে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিসের কিছু কর্মকর্তার ‘অসত্ উদ্দেশ্য’ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক ও ফুটপাত প্রশস্ত করার জন্য গাছ কাটতে ডিএনসিসি বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছিল। সকল প্রক্রিয়া শেষ করেই বন বিভাগ গাছ কাটছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির পাশে সারি সারি গাছ পড়ে আছে। কড়ই, রেইনট্রিসহ ফলদ ও বনজ কোনো বৃক্ষই বাদ পড়েনি নিধনযজ্ঞ থেকে। সড়কটির পাশে তখনো কিছু গাছ থাকলেও চলছিল সেগুলো কাটার প্রস্তুতি। শ্রমিকরা জানান, রাস্তার দুইপাশে নতুন করে ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে। ফুটপাত নির্মাণের জন্য তাদেরকে গাছ কাটতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে ৮ নম্বর সড়কের দু’পাশে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। এই সড়কে প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক গাছ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেই গাছগুলো কাটা হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক একটি গাছের দাম প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে দুইশ গাছের মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। সেজন্য প্রভাবশালীদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে গাছগুলোর ওপর। সেই বাণিজ্যের পেছনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক প্রকৌশলীকে দায়ী করছেন এলাকার বাসিন্দারা।

সেক্টর কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের ছাড়পত্র না পাওয়া সত্ত্বেও গাছগুলো একতরফাভাবে কাটা হচ্ছে। এমনকি সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গাছ না কাটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপরেও অসত্ উদ্দেশ্যে কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে গাছ কাটা হচ্ছে।

জানা গেছে, ৩ নম্বর সেক্টরের দুইপাশের ফুটপাত ১৪ ফুটে উন্নীতকরণ ও রাস্তা ৪৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৬০ ফুট করার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) গত বছরের অক্টোবরে গাছ কাটার উদ্যোগ নেয়। সেজন্য বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে চিঠি দেয় সিটি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ কেটে ফুটপাত প্রশস্তকরণের বিরোধিতা করে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। তারপরেও গাছ কাটার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিএনসিসির উত্তরা আঞ্চলিক অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা এমদাদুল হক চৌধুরী ইত্তেফাক’কে বলছিলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কোনো এখতিয়ার নেই। গাছ কাটার ব্যাপারে বন বিভাগ টেন্ডারও দিয়েছিল। সেই টেন্ডার অনুযায়ী গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তারপরেও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা গাছ না কেটে যাতে ফুটপাত প্রশস্ত করা হয়, সেই চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, যারা বলছে গাছ কাটার পেছনে সিটি কর্মকর্তাদের বাণিজ্য রয়েছে, সেটা ডাহা মিথ্যা কথা। এখানে সিটি করপোরেশনের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের দায়িত্ব সড়ক ও ফুটপাত প্রশস্ত করা, আমরা সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

ডিএনসিসির ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান ইত্তেফাককে বলেন, বন ও পরিবেশ বিভাগসহ সকল দপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই গাছ কাটা হচ্ছে। যাতে কোনো অভিযোগ না তুলতে পারে কেউ, সেজন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গাছ কাটা হচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর সমিতির অফিস ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। সেটিতে রাজউকের অনুমোদনও নেই। সেই অফিস রক্ষা করতে কিছু লোক নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু