একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস বর্জন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। সাত শিক্ষার্থীর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার সকালে তারা ক্লাস বর্জন করেন।
জানা যায়, সকালে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য ক্লাস বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ও মিলনায়নে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ এবং সমাবেশ করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না দেখিয়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। এ বিষয়ে কয়েকবার শিক্ষার্থীরা প্রক্টর মুশফিকুর রহমানের সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান। মঙ্গলবার তার সাথে আলোচনা করতে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তাই শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামেন।
প্রক্টর মুশফিকুর রহমান শিক্ষার্থীদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা আলোচনার জন্য সময় চাইলে ক্লাস শেষে বিকাল ৫টায় বসার জন্য বলি। কিন্তু তারা সে সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে বিকাল তিনটার দিকে ক্লাস রুমে ঢুকে অসদাচরণ করে। পরে আমি প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করে কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র দাখিল করি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার প্রফেসার মো. মমিনুল হক জানান, গত ৪ মার্চের শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিভাগের ৭শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার আদেশ প্রদান করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এসিসিই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়ার নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুমে ঢুকে প্রক্টরের সাথে অসদাচরণ করার অভিযোগ তদন্তের জন্য পূর্বের তদন্ত কমিটির সাথে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আল মামুনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার কার্যদিবস শেষে প্রক্টরের পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে তিনি তার ওই পদে বহাল রয়েছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
