ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিন্নমূল মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সারাদিন ক্যাম্পাসে ঘুরে ফুল, মালা, চকলেট বিক্রি করে রাতে ক্যাম্পাসেই আশ্রয় নেয়। রাতে আশ্রয় নেয়ার পর তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
ক্যাম্পাসের কয়েকটি পয়েন্ট ছিন্নমূল মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বর, টিএসসি হাকিমচত্বর, মিলনচত্বর, ডাচ চত্বর উল্লেখ্যযোগ্য। অর্ধশতাধিক নারী ও তাদের সন্তানরা ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। ফুলবিক্রি, মালা বিক্রি, চকলেট বিক্রি ও ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তারা উপার্জন করে। খাওয়া, গোসল, ঘুম, মল-মূত্র ত্যাগ সবই তাদের ক্যাম্পাসের মধ্যে। এসব ছিন্নমূল মানুষেরা চুরি, ছিনতাই মাদক বিক্রিসহ নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মলচত্বর, কলাভবন প্রাঙ্গন, বটতলাসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা গ্রুপ স্টাডি ও আড্ডা দেয়ার জন্য বসে। কিন্ত কিছুক্ষণ পরপর হকার ও ভিক্ষুকরা এসে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ নষ্ট করে। ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করা ছিন্নমূল শিশুরা শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তারা ছাত্র-ছাত্রীদের নানাভাবে হেনস্তা করে।
প্রিয়দর্শিনী শায়লা নামে এক ছাত্রী জানান, কিছুদিন আগে তিনি কলাভবনের সামনে বসেছিলেন। হঠাৎ একটি শিশু এসে তার কাছে টাকা দাবি করে। কিন্তু কাছে ভাংতি টাকা না থাকায় দিতে পারবে না বললে ওই শিশু তার পা ধরে বসে থাকে। টাকা না দিলে সে যাবেই না। চার-পাঁচ মিনিট পা ধরে বসে থেকে লাভ হচ্ছে না দেখে শিশুটি তার হাতে ঘুষি দিয়ে দৌড় দেয়।
ক্যাম্পাসে ছিন্নমূল মানুষের অবাধ বিচরণের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী ইত্তেফাককে বলেন, ক্যাম্পাসে ছিন্নমূল মানুষ থাকবে কেন? আমরা প্রক্টরিয়াল টিমকে এসব বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিব। ক্যাম্পাস সার্বিকভাবে পরিচ্ছন্ন করার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/ইউবি
