পুলিশের ‘খুনি’ হাসান ভাঙারি ব্যবসায়ী সেজে বাসা ভাড়া নেয়

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৮, ০৯:২৪
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জালাল উদ্দিনের সন্দেহভাজন খুনি হাসানের আচার-আচরণ জঙ্গিদের মতো বলে জানতে পেরেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। চার মাস আগে সে ভাঙারি ব্যবসায়ী সেজে ওই বাড়ির চিলেকোঠার একটি রুম মাসিক সাড়ে তিন হাজার টাকায় ভাড়া নেয়। তাকে এখনো আটক করতে না পারলেও তার স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ মোট সাতজন ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
 
গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডিবির পশ্চিম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে দুই সার্জেন্টের অস্ত্র চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে মিরপুর মডেল থানাধীন মধ্য পীরের বাগের আলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছেই ১০৫/এ/১ নম্বর আড়াইতলা বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে বাড়িতে ঢোকার সময় উপর দিক থেকে ছোড়া ইট ও গুলিতে জালাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 
 
জানা গেছে, ওই বাড়িটির মালিক হেলাল। তিনি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার স্ত্রী লাভলী বেগমও মারা গেছেন। দুই মেয়ে লিজা আর এমিকা মধ্যপীরের বাগের একটি বাসায় থাকেন। তাদের একমাত্র ভাই রাফী কারাবন্দি। মেয়েদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। বাড়িটির সামনে বিশাল বিশাল গর্ত করে বাড়ি তৈরির কাজ করছেন হেলালের ভাই বেলাল। আড়াই তলা বাড়িটিতে প্রবেশের তেমন কোনো রাস্তা নেই। সামনের দিক থেকে বাড়িটিতে ইট বালু মাটি পেরিয়ে যেতে হয়। আর পেছন দিক থেকে বাড়িটিতে দেড় ফুট গলির রাস্তা দিয়ে ঢুকতে হয়।
 
বাড়িটির নিচতলায় ও দুইতলায় পাঁচটি করে দশটি আর চিলেকোঠায় তিনটি রুম। এই তিনটি রুমের মধ্যে মাঝের রুমে হাসান তার স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে বাস করত। তার স্ত্রীর চলাফেরাও ছিল সন্দেহজনক। কিভাবে হাসান পালাতে পারে জানতে চাইলে ওই বাসার এক নারী বলছিলেন, বাড়িটির দক্ষিণ দিকে একটি সরু গলি রয়েছে। অন্য সবদিকেই পুলিশ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গলি দিয়েই হাসান পালিয়ে গেছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে