জরিমানা বাতিল দাবিতে মহানগর মহিলা কলেজের ছাত্রীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৮, ২০:৫০
অতিরিক্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের জরিমানা বাতিল ও প্রবেশপত্র প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের এইচএসসির পরীক্ষার্থীরা। 
 
মঙ্গলবার বেলা ১১ থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত কলেজের সামনে রাস্তা অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বিপ্লব সাহার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবি জানান। এ সময় সদরঘাট ও সুত্রাপুর এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। 
 
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত মডেল টেস্ট নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ পরীক্ষার ফি বাবদ আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং কোনো বিষয়ে অনুপস্থিত বা উত্তীর্ণ না হলে পাঁচশত টাকা জরিমানার নির্ধারণ করে নোটিস দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুধু টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এ পরীক্ষা নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এইচএসসি পরীক্ষা ঘনিয়ে আসায় এবং অসুস্থতার কারণে অধিকাংশ ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।  এ ছাড়া যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অধিকাংশই টেস্ট পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করলেও মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়। এমতাস্থায় জরিমানা না দেয়ার কারণে আগামী ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। 
 
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ রীতিমত ডাকাতি করে আমাদের কাছে টাকা আদায় করছে। টেস্ট পরীক্ষা এবং রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ প্রত্যেকের কাছে সাড়ে সাত হাজার টাকা আদায় করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। টেস্ট পরীক্ষার পর অন্যান্য কলেজে অতিরিক্ত মডেল টেস্ট না নিলেও আমাদের কলেজে মডেল টেস্ট পরীক্ষার আদলে অতিরিক্ত ফি নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া  প্রতিমাসে কলেজের বেতন বাবদ পাঁচশত এবং প্রাকটিক্যাল ক্লাস বাবদ আড়াইশ টাকা নিলেও প্রতিটি প্রাকটিক্যাল ক্লাসের আগে অতিরিক্ত একশ থেকে দেড়শ টাকা নেয়া হয়। অন্যদিকে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম দর্জির কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে প্রাকটিক্যাল খাতায় স্বাক্ষর না করার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও গত ২ বছরে আইসিটি বিষয়ের প্রাকটিক্যাল ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। 
 
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বিপ্লব সাহাকে অপসারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ- বিপ্লব সাহা ক্লাস-পরীক্ষার সময় অকারণে ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ, অশালীন আচরণ এমনকি বিভিন্ন সময় গায়ে হাত দেন।
 
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, যারা জরিমানা মওকুফের আবেদন করবেন তাদের জরিমানা মওকুফ করা হবে। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বিপ্লব সাহার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইত্তেফাক/ইউবি