রাজধানী জুড়ে বিদ্যুত্ ও টেলিফোনের খুঁটি-গুলোতে বিপজ্জনকভাবে তারের জট ঝুলছে। কোথাও ফুটপাত বা রাস্তায় নেমে এসেছে তারের লাইন। ঝুলে থাকা এসব তারের মাধ্যমেই মাঝে মাঝে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। জঞ্জালের মতো এসব তার নষ্ট করছে ঢাকার সৌন্দর্যও। কিন্তু এসব তার অপসারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোন পদক্ষেপই কাজে আসছে না। যদিও রাজধানীতে ইন্টারনেট আর কেবল টিভির তার মাটির নিচ দিয়ে সরবরাহের কথা, কিন্তু তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ পথচারীররা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ সুবিধা না থাকায় তারা এভাবে যত্রতত্র তার ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের সংগঠন আইএসপিএবি বলছে, নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক বা এনটিটিএন হলো মাটির নিচ দিয়ে তারের সংযোগ ব্যবস্থা। উন্নত দেশগুলোর মতো ঢাকায় এনটিটিএন ব্যবস্থা চালু হলে ইন্টারনেট সচল রেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নামিয়ে ভূগর্ভস্থ করা সম্ভব।
সরেজমিনে গিয়ে রাজধানীর খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, শাহজাহানপুর, ফকিরাপুল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, কাকরাইল, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটর, মগবাজার, মৌচাক, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিতে তারের জটলা লেগে থাকার এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি, বনানী, গুলশান, বারিধারা, নিকুঞ্জতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। রাস্তার পাশে মাথার ওপর ইন্টারনেট, ডিস, টেলিফোন লাইনগুলো জড়িয়ে আছে একসঙ্গে। কোথাও কোথাও তারের ভারে কাত হয়ে পড়েছে খুঁটি। তারের জটলা হাঁটার সময় পথচারীদের মাথাও ছুঁয়ে যায়। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
যদিও এনটিটিএন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান, নিকেতন ও মহাখালীতে তারা শতভাগ ভূগর্ভস্থ ক্যাবল অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। সড়কগুলো থেকে বিপজ্জনক তার অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অভিযান চালালেও কয়েক দিন পরেই ফিরে আসে আগের রূপ। ফলে কার্যত ভোগান্তি কমে না।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা নুসরাত আমিন বলছেন, ফুটপাতে চলাচলের সময় একটা ভীতি কাজ করে, কারণ বিদ্যুতের খুঁটিতে যেভাবে তার ঝুলে থাকে, মনে হয় মাথার ওপর ঝুলছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সচিব সারওয়ার আলম ইত্তেফাক’কে বলেন, বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটা কমিটি আছে। ওখানে বিটিআরসির একজন প্রতিনিধি আছে। ওই কমিটি বিষয়টি অবগত আছে। তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ইত্তেফাক/নূহু
