তুরস্কের বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৮, ২১:৪৯
উৎসবমুখর আবহে ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তুরস্কের আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হলো। দিবসটির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দিকীর নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটায় বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে মিল রেখে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন। 
 
পরে রাষ্ট্রদূত কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে দূতাবাস মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতেই দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। বাণী পাঠ সম্পন্ন হলে রাষ্ট্রদূত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অসামান্য নেতৃত্ব গুণ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অতুলনীয় অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিককে সেই অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত মর্মেও রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
 
এর পরেরদিন আঙ্কারাস্থ সুইস হোটেলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী হাকান চাবুসওলো। এছাড়াও, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সামরিক বিভাগের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। 
 
তুরস্কের জনসাধারণের কাছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাসকে সার্বিকভাবে তুলে ধরতে দেশটির আতাতুর্ক সুপ্রিম কাউন্সিলের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তুর্কী ভাষায় প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বিতরণের পূর্বে তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী হাকান চাবুসওলো এবং রাষ্ট্রদূত যুগ্মভাবে তুর্কি ভাষায় প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালীন বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রার উপর বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। সম্প্রতি মধ্যম অর্থনৈতিক আয়ের দেশ হিসাবে বাংলাদেশের উত্তরণ বিষয়ে দূতাবাস হোটেলের ছবি গ্যালারীতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর ‘২১ শতকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
 
ইত্তেফাক/সেতু