গত বিশ্বকাপে সেরা আটে খেলে এসেছে বাংলাদেশ।
সেই দলটার মূল খেলোয়াড়রা প্রায় সবাই আছেন দলে। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রা অনেকেই যার যার তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় এই বাংলাদেশ দল নিয়ে আরেকটু ভালো ফলের আশা করাই যায়। গতকাল দল ঘোষণার পর জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, তিনি মনে করেন, এই বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে সেরা চারে থাকার যোগ্য।
গত বিশ্বকাপের পর থেকে দলের পারফরম্যান্স আর অভিজ্ঞতা মিলিয়েই নান্নু আশা করছেন, দল সেরা চারে থাকতে পারবে, ‘এক থেকে চারের মধ্যে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকবে। আর আমি মনে করি এখন অভিজ্ঞ দল আমাদের। আমরা কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ম্যাচ জিতেছি। এটা কিন্তু একটা প্লাস পয়েন্ট। যতগুলো ওয়ানডে খেলেছি তার মধ্যে ৫১ শতাংশ ম্যাচ জিতেছি। এ অভিজ্ঞতার কারণেই আমাদের প্রত্যাশা বেশি। আমি মনে করি এ দলের অবশ্যই সামর্থ্য আছে এক থেকে চারের মধ্যে থাকার।’
দল ঘোষণার পর নান্নু বলেছেন, তার মতে এ দলটা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। দলে এখন তাদের ধারাবাহিক পারফরম করতে হবে বলে বললেন তিনি, ‘আমি মনে করি পুরো ব্যালেন্সড দল এটি। যেহেতু একটি লম্বা সফরের টুর্নামেন্ট। এ কারণে ধারাবাহিক পারফরম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচ এবং এখানে ফাইনালসহ পাঁচটি ম্যাচ হবে সুতরাং ১৪টি ম্যাচে পারফরম্যান্স ধারাবাহিক থাকতে হবে।’ দল করার সময় নির্বাচকরা অভিজ্ঞতা ও ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বেশি বিবেচনা করেছেন বলে বললেন। ওই কন্ডিশনে যারা ভালো খেলতে পারবে বলে মনে হয়েছে, তাদেরই দলে রাখা হয়েছে বলে বলছিলেন, ‘যেহেতু ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপটি হচ্ছে সুতরাং এখানে আমরা অভিজ্ঞতাকে বেশি মূল্যায়ন করেছি। আর ওখানকার কন্ডিশন উপমহাদেশ থেকে ভিন্ন। আমরা কিন্তু এক বছর আগেও ওখানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে এসেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করেই কিন্তু অভিজ্ঞ দল সাজানো হয়েছে।’
দলে কয়েক জন খেলোয়াড় আছেন, যাদের আন্তর্জাতিক রেকর্ড ভালো হলেও সাম্প্রতিক ফর্ম খুব ভালো না। এ নিয়ে নান্নু অবশ্য আশার কথাই শোনালেন, ‘ফর্ম নিয়ে তো আমরা অবশ্যই চিন্তায় আছি। তবে বিশ্বকাপের আগে এখনো তিন মাস সময় আছে। মাঝে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও আছে। টিম ম্যানেজমেন্ট এবং কোচের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। একটি সুযোগ সামনে আছে। আর এরা কিন্তু এর আগে পারফর্ম করেছে। এমন না যে পারফর্ম করেনি। এটি আসলে সময়ের ব্যাপার।’ তবে এরপরও এ সময় কেউ টানা খারাপ খেললে তাকে পরিবর্তন করে ফেলার সুযোগটা নিতে চান নির্বাচকরা, ‘আয়ারল্যান্ড সফরের পারফর্মেন্স তো অবশ্যই গণ্য হবে। যেহেতু ২২ মের আগে একটা সুযোগ আছে। সেই হিসেবে এখনই নিশ্চিত থাকা যাবে না, আমাদের পারফরম্যান্স অ্যানালাইসিস করতে হবে। আমাদের কিছু খেলোয়াড়ের ইনজুরিও আছে। আর যেহেতু একটা লম্বা সফরে যাচ্ছি, এ সময়ের মধ্যে যদি কেউ ইনজুরিতে পড়ে সেক্ষেত্রে আমাদের ব্যাকআপ খেলোয়াড় রাখতে হবে।’
বাংলাদেশের সূচি
দিন প্রতিপক্ষ ভেন্যু
২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ওভাল
৫ জুন নিউজিল্যান্ড ওভাল (দি/রা)
৮ জুন ইংল্যান্ড কার্ডিফ
১১ জুন শ্রীলঙ্কা ব্রিস্টল
১৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজ টওন্টন
২০ জুন অস্ট্রেলিয়া নটিংহ্যাম
২৪ জুন আফগানিস্তান সাউদাম্পটন
২ জুলাই ভারত বার্মিংহ্যাম
৫ জুলাই পাকিস্তান লর্ডস
