ছবির নাম ‘অবহেলিত নারী’। নারীদের প্রতি অবহেলার চিত্রটি প্রতীকীভাবে উঠে এসেছে ফ্রেমে। একইভাবে ক্ষুধার্ত শিশু, ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, অপরিচ্ছন্ন পানি, গোসল, অপরিকল্পিত নগরায়ন, পথের মাঝে শিশুদের খেলা— সমাজের এসব অসঙ্গতি আমরা প্রতিনিয়ত দেখি। কিন্তু সেগুলো সেভাবে আমাদের নজরে আসে না।
সাধারণ সেল ফোনে সেসব ছবি তুলেছেন সমাজের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। মোবাইল ফোন তাই শুধু সেলফি তোলার যন্ত্র না হয়ে উঠেছে সমাজের অসঙ্গতিকে তুলে ধরার মাধ্যম। মোবাইলে তোলা ছবি নিয়ে বুধবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দুই দিনের ‘আমার চোখে নাগরিক জীবন’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টে (ব্লাস্ট) নারীর স্বাস্থ্য, অধিকার ও ইচ্ছাপূরণ প্রকল্প সখি’র ৩টি কর্ম-এলাকার সদস্যদের মোবাইলে তোলা ছবি নিয়ে প্রথমে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে বাছাই করা ছবি নিয়ে পুরস্কার দেয়া হয়। এ আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল বাংলা কমিউনিকেশন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ডের সদস্য আলোকচিত্রী মুনীরা মোরশেদ মুন্নী এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের কর্মকতা নাদিম ফরহাদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্লাস্টের সহযোগী পরিচালক মোস্তফা জামিল। এ ছাড়া, সখি প্রকল্পের সদস্য মোহাম্মদ সবুজ, মুক্তা, আইয়ুব আলী সরকার, শিল্পী প্রমুখ অনুষ্ঠানে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
হামিদা হোসেন বলেন, সেলফি তুলবার ক্রেজ চলছে। মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে যে, এভাবে মানুষকে সচেতন করা যায়, নিজেদের এলাকার অসঙ্গতি তুলে ধরা যায় এ প্রদর্শনী তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। ছবি ইতিহাসের কথা বলে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির ছবি ভিডিও করেছিলেন এক ব্যক্তি। আজ সেই ভিডিও ফুটেজই ২৫ মার্চের গণহত্যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মোবাইলে ছবি তোলা তাই শুধু সেলফির জন্যই নয়, সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও আমরা এর ব্যবহার করতে পারি।
তাসমিমা হোসেন বলেন, সৃজনশীল কাজ এমনই যা মানুষের মনের দুয়ার খুলে দেয়। তখন সৃজনশীল মন সাধারণ বিষয়ের মাঝেই অসাধারণ কিছু খুঁজে পায়। এই নতুন আলোকচিত্রীরা কিন্তু এখানেই থেমে যাবেন না। তারা তাদের এই যোগ্যতাকে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে কাজে লাগাবেন। যা সমাজ থেকে অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে।
মুনীরা মোরশেদ মুন্নী বলেন, আমাদের মনের অনেক জানালা আছে। কিন্তু সেসব জানালা বন্ধই থাকে। একটু সুযোগ পেলে এসব জানালা খুলে যায়। প্রদর্শনীর ছবিগুলো দেখলে সেই কথাই মনে হয়।
১৮০ জন প্রতিযোগির কাছ থেকে ৩ হাজার ২৬টি ছবি জমা পড়ে। চূড়ান্তভাবে ৫০টি ছবি প্রদর্শনীর জন্য বাছাই করা হয়। প্রদর্শনী চলবে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
ছবি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদ সবুজ। তিনি পেয়েছেন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, মেডেল ও ২০ হাজার টাকার চেক। দ্বিতীয় হয়েছেন শাহানাজ আক্তার। তিনি পেয়েছেন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, মেডেল ও ১৫ হাজার টাকা। তৃতীয় হয়েছেন হাসনাত জাহান তনী। তিনি পেয়েছেন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, মেডেল ও ১০ হাজার টাকার চেক। কোনো স্থান অর্জন করতে না পারলেও ভালো ছবি তোলার জন্য সার্টিফিকেট ও মেডেল পেয়েছেন ১০ জন। এরা হলেন- আসলাম, খাদিজা আক্তার, হাসি বেগম, জেরিন সুলতানা, মুক্তা খানম, সাথী, আফসানা আক্তার তানিয়া প্রমুখ।
শুভেচ্ছা পুরস্কার হিসেবে মেডেল পেয়েছেন সুমন হোসেন, রমজান, সুরমা, আতাউর রহমান, হাসিব বিশ্বাস, শামসুন্নাহার সাথী, নাদিয়া, রেখা আক্তার, শিল্পী, সীমা, সজীব, আসমা আক্তার, মাহমুদুল হাসান, ইব্রাহীম, মীম, নাহার, তুলি ফাতেমা, মেহেদি, রাব্বী, শহিদুল ইসলাম, আয়শামনি, জ্যোস্না বেগম, লবণী, স্বর্ণা, শ্রাবণী, সেতারা, আইয়ুব, লিমা আক্তার, সোনিয়া, তানিয়া, মুন্নী, রতন, তাফসানা আক্তার তানিয়া প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি
