মুম্বাইয়ে বাণিজ্যিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৮, ১৫:৫৩
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই-এ ইন্ডিয়ান মার্চেন্টন্স চেম্বার (আইএমসি) অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদর দপ্তরে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, মুম্বাই-এর উদ্যোগে  'বাংলাদেশ: অ্যান অ্যাট্রাক্টিভ বিজনেস ডেসটিনেশন অ্যান্ড পোটেনশিয়ালস ফর গ্রোথ ইন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট' শীর্ষক বাণিজ্য সেমিনার আয়োজন করা হয়। সেমিনারে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী, প্রধান অতিথি এবং আইএমসি চেম্বার- এর প্রেসিডেন্ট ড. ললিত কানোডিয়া সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারে আইএমসি চেম্বার-এর প্রায় চল্লিশজন সদস্য ও মুম্বাই-এর বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 
বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন মুম্বাই-এর উপ-হাইকমিশনার জনাব মোঃ লুৎফর রহমান উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির সাম্প্রতিক চিত্র উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি এবং দারিদ্র হ্রাস, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, রেমিটেন্স বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতির বিষয় তুলে ধরা হয়।
 
সেমিনারের দ্বিতীয় অংশে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-এর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বর্ণনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলো বিশেষত: গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, কৃষিভিত্তিক শিল্প, জাহাজনির্মাণ শিল্প, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিক্স, অব-কাঠামো উন্নয়ন, হিমায়িত খাদ্য ও চিংড়ি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, পাটজাতদ্রব্য, প্লাস্টিক, ঔষধশিল্পের কথা উল্লেখ করেন। এ সময় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত সুযোগ সুবিধার তুলে ধার হয়। নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভাষা ও সংস্কৃতির নৈকট্য, আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের অভিন্নতা ইত্যাদি সুবিধাসমূহ ব্যবহার করে উভয় দেশই বিপুলভাবে লাভবান হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
হাইকমিশনার তার বক্তব্যে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ এবং এর তাৎপর্য ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের উজ্জ্বল অবস্থান এবং পোশাকশিল্প, আউটসোর্সিং, চাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলটা, মৎস্য উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য, জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিটেন্স প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কানেকটিভিটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী ক্ষেত্রে চমৎকার সহযোগিতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সহমতসহ সাম্প্রতিক সময়ে স্থল ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণে দু'দেশের সাফল্যকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। এ পটভূমিতে তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ীগণকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে বাংলাদেশে অধিক পরিমাণে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আইএমসি চেম্বারকে বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধিদল প্রেরণেরও আহ্বান জানান।
 
সেমিনারে মাননীয় হাই-কমিশনার উপস্থিত ব্যবসায়ীবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে যেকোন বিষয় জানতে নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাই-কমিশন এবং মুম্বাইস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনার সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান। ভারতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মুম্বাই-এ মিশন কর্তৃক আয়োজিত এ ধরনের বাণিজ্যিক সেমিনার এটাই প্রথম এবং সেমিনারটি ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। আইএমসি  চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ড. ললিত কানোডিয়া বাংলাদেশে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রেরণসহ অন্যান্য বিষয়ে হাইকমিশন ও উপহাইকমিশনের সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস