টেনে টুনে এইচএসসি পাশ করেই বনে গেছেন শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সাইনর্বোডে এফসিপিএস’সহ কয়েকটা ডিগ্রি লিখে খুলে বসেছিলেন চেম্বার। টানা ছয় বছর ডিগ্রিধারী চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিলেন লাখ লাখ টাকা। কিন্তু বিধিবাম ! এবার র্যাবের অভিযানে আটকে গেলেন এই চিকিৎসক। এবার চেম্বার গুটিয়ে তাকে যেতে হয়েছে শ্রীঘরে। ওই ভুয়া চিকিৎসকের নাম ওয়ালী উর রেজা (৩৩)। তিনি রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার যশোর মেডিসিন কর্ণারেই বসে প্রতারণা করতেন।
র্যাব জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে গত রবিবার রাতে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার যশোর মেডিসিন কর্ণারে অভিযান চালায়। সে সময় তার ব্যবহৃত প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ও ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আটকের পর ভুয়া চিকিৎসক ওয়ালী উর রেজা র্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে জানায়, তিনি ২০০০ সালে কুষ্টিয়া কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। ২০১১ সালের শেষের দিকে তিনি এ প্রতারনার পরিকল্পনা করেন। এরপর তিনি চিকিৎসক সাজার জন্য ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণার ওপর প্রশিক্ষণ নেন। তারপর রামপুরার ১২৪ ওয়াপদা রোডের একটি ফার্মেসিতে ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখা শুরু করেন। প্রতিদিন শতাধিক রোগী দেখতেন। তিনি রাজধানীর দুটি হাসপাতালে তিনি প্রেসক্রিপশন লিখে টেস্টের জন্য পাঠাতেন এবং সেখান থেকে তিনি কমিশনও পেতেন। দীর্ঘ ছয় বছর তিনি এই পেশায় যুক্ত আছেন বলে স্বীকার করেছেন। তার প্রতি মাসে আয় হতো আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। ঢাকার পাশাপাশি কুষ্টিয়ার একটি ক্লিনিকেও তিনি চিকিৎসক হিসেবে বসতেন। তার প্রতারণার কারনে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওয়ালী উর রেজাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
জানা গেছে, ভুয়া চিকিৎসক ওয়ালীর রেজার বাড়ি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আব্দালপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত রিয়াজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি পূর্ব রামপুরা এলাকায় থাকতেন। আর ওই এলাকার যশোর মেডিসিন কর্নার নামের একটি ফার্মেসিতে রোগী দেখতেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, রেজা তার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্যাডে এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (শেষ পর্ব), শিশু বিশেষজ্ঞ লিখতেন। অভিযানের সময় তার কাছে আমরা বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অন্য একজনের নম্বর দিয়েছিলেন। পরে তিনি নিজেই সব স্বীকার করেন। তার চাহনী ও আচার-ব্যবহার দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, তিনি একজন ভুয়া চিকিৎসক।
ইত্তেফাক/এমআই
