ইত্তেফাক রিপোর্ট
চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে আর্থিক প্রতারক চক্রের ১৬ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। গত সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নিয়োগপত্র, চাকরিপ্রার্থীদের সিভি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ঊর্ধ্বতন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার ব্যবহূত ভুয়া সিল জব্দ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।
আটককৃতরা হলো, লিঙ্কন ওরফে মাসুদ ওরফে প্রশান্ত কুমার সাহা, হাছান জিয়া, সাকির আলী ওরফে শাকিল, জান্নাতুল ফেরদাউস ওরফে রাসেল, সেলিম সরদার, শেখ জাকির হোসেন, আব্দুল কাদের শরীফ, হুমায়ুন কবির, খলিলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, রাকিবুল ইসলাম ওরফে সম্রাট, আবুল হোসেন ওরফে সায়মুন, কেরামত হোসেন ওরফে সজিব, রুবেল বিশ্বাস, কামরুজ্জামান, সাইফুল ইসলাম।
চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, এ চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকরির দেওয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটি পাঁচটি ধাপে নিখুঁতভাবে প্রতারণা করে। এদের প্রথম ধাপে রয়েছে চাকরিপ্রার্থী সংগ্রাহক টিম। এই টিমের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষিত-বেকার যুবকদের টার্গেট করত। এরপর বেকার যুবকদের সেনাবাহিনী, রেলওয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংক, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দিয়ে কাগজপত্রসহ ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করত।
দ্বিতীয় ধাপে ব্যবস্থাপনা টিমের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বা হোটেলে চাকরি প্রত্যাশীদের ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। সেসব ভুয়া কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তের কথা জানাত। চাকরি প্রত্যাশীরা শর্তে রাজি হলে মোটা অংকের টাকা দেওয়ার লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করত।
তৃতীয় ধাপে ভাইভা টিমের সদস্যরা চাকরি প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নিত। সেনাবাহিনীর চাকরির ক্ষেত্রে সেনানিবাসের আশপাশের এলাকায়, একই রকম পদ্ধতিতে ভূমি অফিস, রেলওয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য চাকরির ক্ষেত্রে সচিবালয়ের আশপাশে সুবিধাজনক স্থানে ভুয়া মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে আসছিল। চতুর্থ ধাপে চক্রের মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা চাকরির পূর্ববর্তী মেডিক্যাল সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করত।
আর শেষ ধাপে হাইঅফিসিয়াল টিমের সদস্যরা চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে সুবিধাজনক স্থানে সাক্ষাত্ করে নিজেকে ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসার, সহকারী পরিচালক, সহকারী সচিব বা ঊর্ধ্বতন অফিসারের একান্ত সহকারী/একান্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দেয়। এসময় চাকরি প্রার্থীকে মৌখিক ও মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ নিয়োগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা নিয়োগপত্র দেওয়া ও চাকরিতে যোগদানের তারিখ অথবা মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ উল্লেখ করে দিত। এরপর যোগদানের ৩/৪ দিন আগে ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে চুক্তি অনুযায়ী টাকা নিত এবং মূল নিয়োগপত্রটি ডাকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানাত। সবশেষে ওই চাকরি প্রার্থী নির্ধারিত তারিখে কাজে যোগ দিতে গেলে জানতে পারত নিয়োগপত্রটি ভুয়া। তখন তারা ওই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হতো। এভাবে চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বস্বান্ত করেছে।
