বিএনপির ৬ এমপিকে শপথ নিতে মানা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ছয় নেতাকে শপথ নিতে মানা করেছে দলের হাইকমান্ড। সিদ্ধান্ত অমান্য করে যাতে কেউ শপথ না নেয় সে বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যান তবে তাকে বহিষ্কার করা হবে। বিজয়ী এমপিরা সোমবার রাতে দেড় ঘণ্টা বৈঠকে তাদের গৃহীত মতামত হাইকমান্ডের কাছে পাঠালে জানানো হয়, এই নির্বাচন আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। সুতরাং শপথ নিয়ে সংসদে গেলে জনগণ আমাদেরকে ধিক্কার দেবে। আর এই নির্বাচনকেও বৈধতা দেওয়া হবে। সংসদে উপহাসের পাত্র হতে হবে। রাজনীতি করার কিছু থাকবে না। তাই দলের বিজয়ীরা শপথ নিবেন না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে জানান, আমাদের সিদ্ধান্ত বহাল আছে। দেশের মানুষ রাতের ভোটের এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা যেহেতু এই নির্বাচন গ্রহণ করিনি সুতরাং কেনো শপথ নিবো? তিনি বলেন, নির্বাচিতদের এমপি হিসাবে শপথ গ্রহণ ও সংসদে যাওয়ার গুঞ্জন এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমে অব্যাহত বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের কারণে এমপিদের সতর্ক করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, নববর্ষের দিন রাতে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য বৈঠক করেন গুলশান কার্যালয়ে। বৈঠকে শপথ গ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে অটল থাকার সিদ্ধান্ত হয়। পরে দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে  দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোমবার রাতে গুলশানে বৈঠক করে মির্জা ফখরুল দলের বিজয়ী এমপিদেরকে শপথ না নেওয়ার দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ শপথ নিলে তার পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান, বগুড়া-৪ এর মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এর হারুণ অর রশীদ, চাপাইনবাবগঞ্জ-২ এর আমিনুল ইসলাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত উকিল আব্দুস সাত্তার। এদের মধ্যে তিনজন শপথ গ্রহণের জন্য খুবই উদগ্রীব। তারা দলকে ইতিবাচক করার জন্য দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে লবিং করছেন বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে। এদের অন্যতম হচ্ছেন জাহিদুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে তার ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে। সেটা তিনি মহাসচিবকে জানিয়েছেন। সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে তার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।

হারুণ অর রশীদ বলেন, যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে এটা সত্য। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচিত হয়েছি দলীয় প্রতীকে, দলের সমর্থনে। আমরা এখন পর্যন্ত একমত যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত উকিল আবদুস সাত্তারও তার ওপর এলাকাবাসীর চাপের কথা তুলে ধরেছেন।