টিআর-কাবিটার বিশেষ বরাদ্দ বাতিল

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৮

টিআর-কাবিটার বিশেষ বরাদ্দ বাতিল প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। বিপরীতে বরাদ্দের সমপরিমাণ টাকা দিয়ে গৃহহীনদের ঘর করে দেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে ঘিরে গড়ে উঠা দুর্নীতির চক্র ভাঙতে এই উদ্যোগ বলছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলছেন, বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে কিছু নয়ছয় হয়তো হয়ে থাকতে পারে। তবে বর্তমান পদক্ষেপ নেয়ার ফলে তার মন্ত্রণালয় দুর্নীতিমুক্ত থাকবে।

ওই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রতিটি জেলায় কমবেশি এক হাজার করে মোট ৬৪ হাজার আধা-পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহহীনকে গৃহদান কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, দুই ধাপে আগামী জুন মাসের মধ্যে ৩২ হাজার এবং বছরের শেষ অর্থাত্ ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাকি ৩২ হাজার ঘর নির্মাণ শেষ হবে। চাহিদা অনুযায়ী এ কর্মসূচি পরবর্তী বছরের জন্যও বিবেচনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রতি আর্থিক বছরে এমপিদের খরচ করার ক্ষমতা দিয়ে টিআর খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বা সমমানের চাল এবং কাবিটা বাবদ ১০০ কোটি টাকা নগদ প্রদান করা হয়। একে বিশেষ বরাদ্দ বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে দলের মধ্যে কোন্দল থেকে শুরু করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। একদিকে দুর্নীতি-কোন্দল বন্ধ অন্যদিকে বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে এই সিদ্ধান্ত অবদান রাখবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিটি ঘরের আয়তন হবে ৩ থেকে ৪শ’ বর্গফুট। এতে দুটি কক্ষ, একটি টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকবে। ছাদ হবে টিনের।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন ব্যক্তিদের তালিকা গ্রহণ করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি যাচাই-বাছাই করে যে তালিকা দেবেন সেই অনুযায়ী মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে ঘর বরাদ্দ করবে। এখানে এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোনো ভূমিকা থাকছে না।

এ বিষয়ে সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এটি দুর্নীতি বন্ধের জন্য একটি ভাল পদক্ষেপ হবে। তবে দেখতে হবে প্রকৃতদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় গৃহহীনদের বিবেচনা করা হয় কি না।