কোন লিখিত চুক্তি ছাড়াই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যান্টিনের দায়িত্ব শাখা ছাত্রলীগ নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪ এপ্রিল (বুধবার) থেকে ছাত্রলীগ ক্যান্টিনের সকল কাজ পরিচালনা করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির নিচ তলার ক্যান্টিনে সকাল-বিকাল নাস্তা ও দুপুরের খাবার হয়ে থাকে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্যান্টিনের দায়িত্বে আছেন মো. সোহেল মিয়া। তিনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিয়ে এ ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। কাগজে-কলমে ক্যান্টিনের দায়িত্ব সোহেলের থাকলেও কিছু দিন আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যান্টিনের উন্নয়ন ও খাবারের মান ভালো হবে বলে তাকে জানিয়ে দায়িত্ব নেয়। পরে ছাত্র-বিষয়ক বিভাগের অনুমতি না নিয়েই ক্যান্টিন পরিচালনা শুরু করে ছাত্রলীগ। তারা ক্যাশে তাদের নিজস্ব লোক বসিয়ে সকাল-দুপুরের পাশাপাশি রাতেও খাবার চালু করেছে।
ছাত্রলীগের ক্যান্টিন পরিচালনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগ ডাইনিং চালানোর ফলে আমাদের বেশি দামে নিম্ন মানের খাবার খেতে হয়। এছাড়া প্রায়ই ডাইনিং বন্ধ থাকে। যার কারণে একটু ভালো মানের খাবারের জন্য আমরা টিএসসি ক্যান্টিনে আসি।
ক্যান্টিন পরিচালনায় থাকা মো. সোহেল মিয়া বলেন, এবিষয়ে আমি ছাত্রবিষয়ক বিভাগকে জানালে আমাকে তিনদিন দেখতে বলা হয়। তাই এ তিনদিন ছাত্রলীগের কথামতো ক্যান্টিন চালাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার থাকা সম্ভব নয়।
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের মানোন্নয়ন ও পদ বাড়ানোর লক্ষ্যে আমাদের কিছু কর্মী তদারকি করছে। খাবারের মানোন্নয়ন করতে না পারলে আমরা দায়িত্ব ছেড়ে দিব।
এবিষয়ে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগ শুধু আমাকে শুক্রবার ও শনিবার ক্যান্টিন চালাবে বলে জানায়। তবে আমি অনুমতি দেইনি। কিন্তু ছাত্রলীগ ইতিমধ্যেই ক্যান্টিন চালানো শুরু করেছে তা আমার জানা নেই। রবিবার এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
