গোপালগঞ্জে পরীক্ষামূলক রেশম গুটি উৎপাদন

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৪৪
গোপালগঞ্জে পরীক্ষামূলক উন্নত জাতের রেশম গুটি উৎপাদন করা হয়েছে। রেশম গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগিতায় রেশম উন্নয়ন বোর্ডের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর কার্যালয়ে গত মার্চ মাসে তুঁত গাছের পাতা ব্যবহার ও পলু পালন করে প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জে রেশম গুটি উৎপাদন করা হয়।
 
গতকাল শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবে রেশম উন্নয়ন বোর্ড সিবিএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড এমপ্লয়িজ লীগের ( সিবিএ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবু সেলিম মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি মূল বক্তব্যে বলেন, গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলাগুলো রেশম চাষের উপযোগী। এ অঞ্চলের মাটি আবহাওয়া, জলবায়ু তুঁত চাষ ও রেশম উৎপাদনের উপযোগী। রেশম উৎপাদনের প্রক্রিয়া এক ঘন কুটির শিল্প। বেকার নারীরা ঘরে বসেই রেশম গুটি উৎপাদন করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এ অঞ্চলের বাঁধ, রাস্তার খাদ, জমির আইল ও ব্যক্তিগত জমিতে তুঁত গাছ আবাদের মাধ্যমে রেশম গুটি উৎপাদন করে উন্নত জাতের রেশম উৎপাদন করা সম্ভব।
 
তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর, লতিফপুর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড এমপ্লয়িজ লীগের তত্ত্বাবধানে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের অর্থায়নে ৬টি ব্লকে ৬ হাজার তুঁত গাছ রোপণ করা হয়। এ গাছের বয়স ২ বছর পূর্ণ হলে ৩০ জন চাষির কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রতি বছর প্রত্যেক চাষি এ গাছ থেকে ৫০/৬০ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এ ছাড়া গত মার্চে কুশলী ইউনিয়নের ১০ চাষি তাদের নিজস্ব জমিতে তুঁত চাষ করেছন। এরমধ্যে অনেকেই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্য। ১ বছর পর তারা রেশম গুটি উৎপাদন করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা হতে পাটুয়াখলীর পায়রাবন্দ ও ভাঙ্গা হতে যশোর রেলপথ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ রেল পথের পাশে ১০ থেকে ১২ লাখ তুঁত গাছ রোপণ করে প্রতি বছর প্রায় ৩ শ' টন রেশম উৎপাদন করা সম্ভব। তুঁত গাছ ৬/৭ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। এ গাছ রেল চলাচলে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। তুঁত গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। এতে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত রেশম ব্যবহার করে একটি রেশম বস্ত্র কারখানা স্থাপন করে রেশম বস্ত্র উৎপাদন ও বিপণন করা সম্ভব।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক রেশম বস্ত্রকে বস্ত্রের রানী বলা হয়। এ দেশে রেশম উৎপাদনের হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে। এক সময় বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ রেশম ইউরোপে রপ্তানি করা হতো। রেশম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নবম। বাংলাদেশের রেশম অধিক টেকসই, উজ্জ্বল ও আরামদায়ক। তাই চীন বাংলাদেশের রেশম ক্রয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীন প্রতি বছর ভারতের কাছে ৯ হাজার টন রেশম বিক্রি করে। বাংলাদেশ চীনের চেয়ে কম মূল্যে ভারতে রেশম রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
 
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু রেশম উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। রেশম চাষ ১০ জেলা থেকে ৪০ জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। ২০০০ সালের মধ্যে দেশের চাহিদা অনুযায়ী রেশম উৎপাদনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০২ সালে রেশম কারখানা বন্ধ করে দেয়। গবেষণা ইন্সটিটিউটকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করায় রেশম খাতে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। ২০০৮ সালে রেশম উৎপাদন মারাত্মক হ্রাস পায়।
IMG0
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে রেশম রক্ষায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। রেশম উন্নয়ন বোর্ড রেশম চাষ সম্প্রসারণে যথাযোগ্যে ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই আমাদের সংগঠন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেশমের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সারা বছরব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গোপালগঞ্জ সহ আশপাশ অঞ্চলে রেশম উৎপাদনের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করারর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় সু দৃষ্টি কামনা করছি।
 
ইত্তেফাক/এসএস