দুদকের মামলায় ভূমি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন কারাগারে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ২১:০৩
রাজধানীর গুলশান এলাকায় ১০ কাঠা জমি অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলায় ভুমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 
 
রবিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে কুতুব উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম বাদী হয়ে গুলাশন মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 
 
মামলার এজহারে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, রাজউকের মালিকানা জমি অবৈধভাবে নাজমুল ইসলাম সাইদ নামের এক ব্যক্তির মালিকানা দেখিয়ে গুলশান এলাকায় ১০ কাঠ জমির মধ্যে ৫ কাঠা জমি মো. আব্দুল জলিল মৃধা এবং ৫ কাঠা জমি যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক (ডা.) এ.কে.এম আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামসুন নাহার এর নামে ক্রয় দেখানো হয়। অর্থাৎ একই দলিলমূলে মোট ০৩ জন ক্রেতার নামে সর্বমোট ১০ কাঠা শতাংশ জমি ক্রয় দেখানো হয়। উক্ত দলিল পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, দলিলে ১ নং ক্রমিকের ক্রেতা হচ্ছেন মো. আব্দুল জলিল মৃধা; যিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের পার্সোনাল অফিসার মো. কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ এর শ্বশুর। এখানে দলিলে ক্রেতা হিসেবে আব্দুল জলিল মৃধার নাম উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এই জমির প্রকৃত ভোগ দখলকারী/সুবিধাভোগী হচ্ছেন তার মেয়ের জামাতা মো. কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ। তিনিই মূলত এ সকল কর্মকাণ্ডের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন।
 
অর্থাৎ নেপথ্যে তিনিই ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থেকে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে কৌশলে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রাজউকের হুকুম দখলকৃত সম্পত্তি অবমুক্ত করে নাজমুল ইসলাম সাইদকে জমির ভুয়া আমমোক্তার সাজিয়ে এবং শ্বশুর আব্দুল জলিল মৃধাসহ আরও দুজনকে কথিত ক্রেতা সাজিয়ে নিজেই এই জমি আত্মসাৎ করেন।
 
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, মো. কুতুবউদ্দিন আহম্মেদ এর শ্বশুর আব্দুল জলিল মৃধার নামে এই জমি ক্রয় করা হলেও তিনি কখনোই এই জমি ভোগদখল করেননি। মূলত শুরু থেকেই কুতুবউদ্দিন আহম্মেদ এই জমি ভোগ দখল করে আসছেন। সুতরাং, এই ভূমি আত্মসাৎ প্রক্রিয়ার সাথে কুতুব উদ্দিন আহমেদ এর শ্বশুর সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকলেও বা তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলেও তিনি ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করায় তাকে অভিযুক্ত/আসামি হিসেবে গণ্য করা হয়নি।
 
এছাড়া, এই জমির অপর ক্রেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক (ডা.) এ.কে.এম আনোয়ার উল্লাহ এবং তার স্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) সামসুন নাহার এর ক্রেতা হিসেবে দলিলে নাম থাকলেও প্রকৃত অর্থে তারা কখনো এই জমি ভোগদখল করেননি এবং বর্তমানেও এই জমি তাদের দখলে নেই। মূলত কুতুব উদ্দিন আহমেদই তাদেরকে প্রভাবিত ও প্ররোচিত করে কম মূল্যে গুলশানের জমি ক্রয় করে দিবেন বলে তাদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে দলিলে ক্রেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। অর্থাৎ এই জমির প্রকৃত ভোগ দখলকারী বা সুবিধাভোগী হচ্ছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের পার্সোনাল অফিসার জনাব মো. কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ।
 
এদিকে আদালত সূত্র জানায়, কুতুব উদ্দিন আহমেদকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। তখন কুতুব উদ্দিন আহমেদের পক্ষে আইনজীবী শাহনাজ আক্তারসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে আবুল হাসান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
  
ইত্তেফাক/ইউবি