ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের খিলগাঁও (তালতলা) সুপার মার্কেট ভবনের কয়েকটি পিলারে রয়েছে বড় ধরনের ফাটল। প্রায়ই ধসে পড়ছে ছাদের আস্তর। আস্তর ধসে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। তবুও ৩২ বছরের পুরনো এ মার্কেটে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করছেন দোকানিরা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, মার্কেটে ৮৫০টি দোকান আছে। প্রতিদিন এখানে ১০ হাজার লোক আসা-যাওয়া করে। মার্কেটের চারটি ভবনের মধ্যে থানা সংলগ্ন ভবনের যে জায়গাটিতে বড় ধরনের ছাদ ধস হয়েছে ঠিক তার পাশেই রয়েছে বাচ্চাদের স্কুল ড্রেস বিক্রির দোকান। প্রতিদিন এখানে শত শত শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করে। অন্যদিকে কাঁচাবাজারের দ্বিতীয় তলায় আছে বাচ্চাদের বেশ কয়েকটি গেমসের দোকান। এ ভবনটির চিত্রও ঠিক একই রকম। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের দুটি ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে ব্লুয়ার মেশিন। মুদি মার্কেটের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কোটায় বসানো হয়েছে জেনারেটর মেশিন। এতে ভবনের ঝুঁকির পরিমাণ আরো বেড়েছে। এছাড়া মার্কেটে প্রায়ই ঘটছে চুরির ঘটনা।
স্থানীয়রা বলেন, খিলগাঁও(তালতলা) মার্কেটের বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ইতোমধ্যে ভবনের ছাদ ধসে স্থানীয় একজন নারী ক্রেতা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রায়ই ছাদের আস্তর ধসে পড়ছে। এতে পার্কিংয়ে থাকা মোটরসাইকেল ও গাড়ি প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের মার্কেটটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নাই।
খিলগাঁও(তালতলা) সিটি কর্পোরেশন সুপার মার্কেট বণিক সমিতি ইতোমধ্যে মার্কেট সংস্কারের জন্য দোকান মালিকদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমিতির সভাপতি হুমায়ূন কবির আজাদ এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান জুয়েল স্বাক্ষরিত একটি নোটিসে তারা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মার্কেট ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও ডিএনসিসি কর্তৃক কোনো প্রকার উন্নয়ন কাজ করেনি। মার্কেটের সমস্যাগুলো সমাধান না করলে ব্যবসায়ীদের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
সমিতির সভাপতি হুমায়ূন কবির আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, ১৯৮৬ সালে মার্কেট প্রতিষ্ঠার পর কোনো সংস্কার করা হয়নি। মার্কেটের জন্মলগ্ন থেকে সব মেয়রকে মার্কেট সংস্কারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে কোনো সাড়া মেলেনি। অথচ জন্মলগ্ন থেকে সিটি কর্পোরেশনকে ভাড়া দিচ্ছি। মার্কেটের প্রবেশ গেটের গ্রিলগুলো সংস্কার করা না হলে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই রমজানের আগে আমরা বণিক সমিতির উদ্যোগে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বুয়েটের একটি দল ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের ভবনটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত সংস্কারের প্রস্তাব করে। মার্কেট সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ হয়েছিল, যা দিয়ে মার্কেটের চারটি ভবনের মধ্যে যে ফাঁকা জায়গাটুকু আছে তা সংস্কার করা হয়েছে। তবে বুয়েট বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য অনুযায়ী মার্কেটের মূল ছাদের যে সংস্কার দরকার ছিল, তার জন্য আজও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
ইত্তেফাক/নূহু
