পাকিস্তানে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ২১:০৬
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: একটি জাতির অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান এসময় একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 
 
হাইকমিশনার তার উপস্থাপনায় গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে যে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার উপর আলোকপাত করেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি  নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ, বিশেষ করে বাংলাদেশকে ইউএনডিপির মানব উন্নয়নের মধ্যম ক্যাটাগরিতে উন্নীতকরণ, বিশ্বব্যাংকের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকাভুক্তিকরন এবং জাতিসংঘ কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা প্রদানের কথা তুলে ধরেন। 
 
উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয় যে, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পয়নিষ্কাশন, প্রাথমিক শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়, রেমিট্যান্স আয়, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়, জ্বালানি, মোবাইল ফোন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রাপ্ত প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও পাকিস্তানের বিকনহাউজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. তারিক রেহমান এবং পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও লেখক তাহিরা আবদুল্লাহ প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
 
ড. তারিক রেহমান তার বক্তৃতায় ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়ে বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে যে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে তার প্রশংসা করেন। প্যানেল আলোচক তাহিরা আবদুল্লাহ বহুবার বাংলাদেশ সফরকালে তার সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে লিপিবদ্ধ বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক উন্নয়নের উপাত্ত তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় উন্নয়ন করেছে তা এক কথায় প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়। উভয় আলোচকই বাস্তুচ্যুত ও বিতাড়িত দশ লাখের বেশী রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে নিজ ভূমিতে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  
    
ইত্তেফাক/সেতু